বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

‘গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সাময়িক, সরকার নানাভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

‘গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সাময়িক, সরকার নানাভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে’
একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন। ছবি: ঢাকা মেইল

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সাময়িক, এই সংকট দ্রুততম সময়ে সমাধানে সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেছেন, বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ নেই। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার গ্যাস আমদানির পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাচ্ছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে আমরা কাজ করছি। সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে, এটা দূর করা হচ্ছে। প্রয়োজন মেটাতে আমরা গ্যাস আমদানি করছি। তবে শুধু গ্যাস আমদানি করলেই সংকটের সমাধান হবে না, আমদানি করা গ্যাস ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও তৈরি করতে হবে। এলএনজি স্টেশন স্থাপনেও সময় প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন

প্রতিশ্রুতি ছিল স্বস্তির, সংকটেই কাটল ছয় মাস

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বয়লার বা কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সেটি সমাধান হয়েছে। তবে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত নয়।’

এই সংকট মোকাবিলায় সরকার একই সঙ্গে কয়েকটি পথে এগোচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার কাজও চলছে।’

Eknek-2
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান, ভোলার গ্যাস ব্যবহার, গ্যাস আমদানি এবং সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিল সরকার। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আমদানিনির্ভরতার ওপর নির্ভর করলে হবে না। দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদনও বাড়াতে হবে।

এ সময় দেশে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। দ্রুত এটি তিন মাসে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মজুত ছয় মাসে উন্নীত করতে চায় সরকার।

আরও পড়ুন

অনুমোদন পায়নি দুই অয়েল ট্যাংকার প্রকল্প, যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ

সাকি বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলার বিষয় নয়, ভবিষ্যতের জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে। সে কারণে তেলের মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প উৎস তৈরি করা হচ্ছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় সেই সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।’

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘গ্যাস আমদানির পাশাপাশি এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের সংকট কাটানোর চেষ্টা চলছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে।

এএইচ/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর