বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রাতিষ্ঠানিক কিছু ঘাটতি রয়েছে: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রাতিষ্ঠানিক কিছু ঘাটতি রয়েছে: সিইসি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনি কর্তা’ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। ছবি: ঢাকা মেইল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনি কর্তা’ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি আমাদের একটু শর্ট। কারণ এই নির্বাচনে আমরা অভ্যস্ত না।’

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যাতে কোনো গ্যাপ না থাকে সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। ৯৯১ সালের পর আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানে প্রাতিষ্ঠানিক কিছু ঘাটতি রয়েছে। কারণ দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে। এ নির্বাচন আয়োজন আমরা কিংবা সংসদ সচিবালয়ও অভ্যস্ত নয়।’

তিনি বলেন, ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি আমাদের একটু শর্ট। কারণ এই নির্বাচনে আমরা অভ্যস্ত না। পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো গ্যাপ যেন না থাকে সেই ব্যবস্থা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দুটি এবং বিএনপির পক্ষ থেকে একটি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে একই প্রার্থীর একাধিক মনোনয়নপত্রের মধ্যে একটি প্রত্যাহার হওয়ায় এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন দুই প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সিইসি জানান, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোটার। এবার মোট ভোটার ৩৪৯ জন। ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা করা হবে। গণনার সময় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। গণনা শেষে সবার সামনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। কতটি ব্যালট ছাপানো হয়েছে, কতটি ব্যবহার হয়েছে, কতটি অব্যবহৃত রয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং প্রত্যেক প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন- এসব তথ্য বিস্তারিতভাবে ঘোষণা করা হবে।

সিইসি বলেন, কোনো সংসদ সদস্য কাকে ভোট দিয়েছেন, তা আলাদাভাবে ঘোষণা করা হবে না। তবে ব্যালটের ওপর ভোটারের নাম এবং প্রার্থীর নাম থাকবে বলে তিনি জানান।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশনের বড় ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে না বলে জানান সিইসি।

তিনি বলেন, ব্যালট ছাপানো, কাগজপত্র ও স্টেশনারিসহ কিছু আনুষঙ্গিক ব্যয় হবে। সংসদ ভবনে বৈঠক আয়োজনের ব্যয় সংসদ সচিবালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে হতে পারে।

সিইসি জানান, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করা বাধ্যতামূলক। সেই অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেই নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভোট গণনার সময়ও সরাসরি সম্প্রচার চালু থাকবে।

এমএইচএস/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর