মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটেছে, এবার মৎস্য রফতানি বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটেছে, এবার মৎস্য রফতানি বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

দেশের মৎস্য খাত এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অর্জন করেছে উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, এবার মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রফতানি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মৎস্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য উৎপাদনে হাওরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের মিঠাপানির মাছের একটি বড় অংশ হাওরাঞ্চল থেকে আসে। সে কারণে জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন এবার ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জে করা হয়েছে, যাতে প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষি, জেলে ও এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের কাছে কর্মসূচির বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়।

তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে বড় পরিসরের এ আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও নির্দেশনায় ঢাকার বাইরে কর্মসূচি আয়োজন সম্ভব হয়েছে এবং তার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

মৎস্য খাতের উন্নয়নে অতীত ও বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নদী খনন ও খাল সংস্কারসহ কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

জাতীয় মৎস্য পক্ষ সফল করতে মৎস্য অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সবার দায়িত্ব আলাদা হলেও সম্মিলিতভাবে কাজ করলেই বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব। হাতের পাঁচটি আঙুল একত্রিত হলে যেমন মুষ্টিবদ্ধ শক্তি তৈরি হয়, তেমনি দলগত প্রচেষ্টাই যে কোনো বড় উদ্যোগকে সফল করে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা বা কাজে ফাঁকি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রত্যেককে নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এ খাতের উন্নয়নে কয়েকটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক অর্থনীতিতে মৎস্য অধিদফতরের অবদান আরও জোরালো হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি সেবা নিতে এসে মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন সর্বশেষ ২০০৩ সালে ঢাকার বাইরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে এ আয়োজন হওয়ায় মাঠপর্যায়ের মৎস্যচাষি ও জেলেদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৎস্যচাষি, জেলে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর