সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ভয়াল সেই ‘সিরিজ বোমা’ হামলার আজ ২১ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

ভয়াল সেই ‘সিরিজ বোমা’ হামলার আজ ২১ বছর
সংগৃহীত ছবি

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জমিয়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামে একটি জঙ্গি সংগঠন দেশের ৬৩ জেলায় একই সময়ে চালিয়েছিল বোমা হামলা। দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় একসঙ্গে ‘সিরিজ বোমা’ হামলায় সেই সময় দু’জন নিহত ও অন্তত ১০৪ জন আহত হয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল— আদালত, বিমানবন্দর, মার্কিন দূতাবাস থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়।

আজ ১৭ আগস্ট (সোমবার) দেশব্যাপী এ সিরিজ বোমা হামলার ২১ বছর পূর্ণ হলো।

পুলিশ সদর দফতর ও আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই সারাদেশে ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে ডিএমপিতে ১৮টি, সিএমপিতে ৮টি, আরএমপিতে ৪টি, কেএমপিতে ৩টি, বিএমপিতে ১২টি, এসএমপিতে ১০টি, ঢাকা রেঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১১টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৭টি, খুলনা রেঞ্জে ২৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭টি, সিলেট রেঞ্জে ১৬টি, রংপুর রেঞ্জে ৮টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৬টি ও রেলওয়ে রেঞ্জে ৩টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে মোট ৯৬১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়াও, ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এসব মামলার মধ্যে ১৪২টি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বাকি ১৭টি মামলার চূড়ান্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়— ঘটনার সত্যতা থাকলেও আসামি শনাক্ত করা যায়নি।

পুলিশ জানায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারাদেশে ১৫৯টি মামলার মধ্যে ৯৪টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এসব মামলায় ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। ৫৫টি মামলা বর্তমানে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে, যেগুলোতে আসামি সংখ্যা ৩৮৬ জন। এই সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় যেসব মামলায় রায় হয়েছে সেগুলোতে ৩৪৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ২৭ জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। এরমধ্যে ৮ জনের ফাঁসি ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। এসব মামলায় খালাস পেয়েছেন ৩৫৮ জন, জামিনে রয়েছেন ১৩৩ জন আসামি। এ ছাড়া ঢাকায় বিচারাধীন ৫টি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এখন পর্যন্ত যাদের ফাঁসি হলো

ঝালকাঠি জেলার দুই বিচারককে হত্যার দায়ে ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ ছয় জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি, চিন্তাবিদ আব্দুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ এবং সালাউদ্দিনকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

২০০৫ সালের পরবর্তী সময়ে কয়েকটি ধারাবাহিক বোমা হামলায় বিচারক ও আইনজীবীসহ ৩০ জন নিহত হন এবং ৪ শতাধিক আহত হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবরে চট্টগ্রাম, চাঁদপুর এবং লক্ষীপুরের আদালতে একযোগে জঙ্গিরা বোমা হামলা চালায়। এতে তিনজন নিহত এবং বিচারকসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়।

কয়েকদিন পর সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীর ওপর বোমা হামলার ঘটনায় তিনি এবং তার গাড়িচালক আহত হন। ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারক বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে নিহত হন ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে এবং সোহেল আহম্মদ। এ হামলায় আরও অনেকে আহত হয়।

সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে ওই বছরের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর বার সমিতির লাইব্রেরি এবং চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে। গাজীপুর বার লাইব্রেরিতে আইনজীবীর পোশাকে প্রবেশ করে আত্মঘাতী এক জঙ্গি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ হামলায় আইনজীবীসহ ১০ জন নিহত হন। এ সময় আত্মঘাতী হামলাকারী জঙ্গিও নিহত হয়।

একই দিন চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে জেএমবির আত্মঘাতী জঙ্গিরা বিস্ফোরণ ঘটায়। সেখানে রাজিব বড়ুয়া নামের এক পুলিশ কনস্টেবল এবং একজন সাধারণ মানুষ নিহত হন। এ ছাড়াও, পুলিশসহ প্রায় অর্ধশত আহত হয়।

একই বছরের ১ ডিসেম্বর গাজীপুর ডিসি অফিসের গেটে আবারও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে নিহত হন গাজীপুরের কৃষি কর্মকর্তা আবুল কাশেম। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন। ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নেত্রকোনা শহরের বড় পুকুর পাড় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর অফিসের সামনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেখানে স্থানীয় উদীচীর দু’নেতাসহ ৮ জন নিহত হয়। এ সময় প্রায় শতাধিক লোক আহত হয়।

একেএস/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর