চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের জীবন ও কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা জাহাজভাঙা শিল্পে একের পর এক দুর্ঘটনা ও শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তারা বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা শিল্পে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নয়জন শ্রমিক মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তারা বলেন, মুনাফার জন্য শ্রমিকদের জীবন বলি দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তারা অভিযোগ করেন, জাহাজভাঙা শিল্পে প্রতিদিন শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। দুর্ঘটনার পর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও নানা অনিয়ম রয়েছে।
সমাবেশ থেকে সব দুর্ঘটনার তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা, প্রতিটি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্বচ্ছভাবে প্রকাশ, ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
একইসঙ্গে নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত, আহত শ্রমিকদের উন্নত চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত মানদণ্ড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কর্মস্থলে নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিতের পাশাপাশি শ্রমিকদের অনিরাপদ কাজ প্রত্যাখ্যানের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের দাবির মধ্যে শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সেফটি কমিটি গঠন ও কার্যকর করা, জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট আইএলও কনভেনশন ও বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, শিপইয়ার্ডে নিয়মিত ও কার্যকর পরিদর্শন এবং শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ও রয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমিকের জীবনের বিনিময়ে কোনো শিল্পের মুনাফা হতে পারে না। জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আয়োজকদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত জাহাজভাঙা শিল্পে ১৮৫ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া গত ১০ বছরে আড়াই শতাধিক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়েও একের পর এক দুর্ঘটনায় শ্রমিক হতাহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
এম/এএইচ



