রাজধানীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নাগরিকদের সামনে তুলে ধরে ঢাকার প্রতি মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক চেতনা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র্যালি’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ঐতিহাসিক ঢাকা গেট থেকে শুরু হয়ে নগর ভবনে গিয়ে শেষ হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আয়োজনে এই সাইকেল র্যালি।
রাজধানীর ৪১৬ বছর পূর্তি ও ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে ১ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয়োজিত মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।
সকাল ৭টায় র্যালির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
র্যালিতে প্রায় ৩০০ নাগরিক অংশ নেন। ঢাকা গেট থেকে শুরু হয়ে টিএসসি, শাহবাগ, বাটা সিগন্যাল, সায়েন্সল্যাব, নীলক্ষেত, আজিমপুর, ঢাকেশ্বরী মন্দির, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, বকশীবাজার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সচিবালয়, জাতীয় বার্ন ইউনিট ও বঙ্গবাজার হয়ে র্যালিটি নগর ভবনে গিয়ে শেষ হয়।
অংশগ্রহণকারী সাইক্লিস্টদের প্রত্যেককে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পদক ও সনদ দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ঢাকা দেশের প্রাণের শহর এবং ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। ঢাকাকে ঘিরেই আগামী বাংলাদেশ। তাই একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, এমন একটি ঢাকা প্রয়োজন যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন। বিশেষ করে তরুণেরা যাতে সাইকেল নিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ পান, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, চার শতাধিক বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ ঢাকার সঙ্গে নাগরিকদের আত্মিক ও মমত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করা প্রয়োজন। নগরীর ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে অনেকের পর্যাপ্ত পরিচিতি ও সম্পৃক্ততা না থাকায় ঢাকার প্রতি কাঙ্ক্ষিত মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক চেতনা গড়ে ওঠেনি।
এর প্রভাব নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নাগরিকদের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে নগরের প্রতি ভালোবাসা, মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতার চেতনা জাগ্রত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ‘আমার শহর, আমার দায়িত্ব’—এই উপলব্ধিকে নাগরিক জীবনের অংশ করে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, সচেতন ও বাসযোগ্য ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় ডিএসসিসি।
‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে আগামী ১৫ আগস্ট মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে বুড়িগঙ্গা মঞ্চ পর্যন্ত ‘ঢাকা হেরিটেজ রান’ অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ থেকে ২২ আগস্ট সূত্রাপুরের জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে ঢাকাকে নিয়ে মঞ্চ নাট্যোৎসব, ২১ আগস্ট খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাটে নৌকা বাইচ এবং সদরঘাটে হেরিটেজ ক্রুজের আয়োজন রয়েছে।
এ ছাড়া ২২ আগস্ট মধুমিতা সিনেমা হলে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন, ২১ থেকে ৩০ আগস্ট নগরীর বিপণিবিতানে ‘দ্য গ্রেট ঢাকা সেল’ এবং ‘লাভ লেটার টু ঢাকা’ কর্মসূচি, ২১ থেকে ২৮ আগস্ট শিল্পকলা একাডেমিতে ঢাকাকে নিয়ে মঞ্চ নাটক এবং ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ টেলিভিশনে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরোনো নাটক ও অন্যান্য অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে।
২৮ আগস্ট লক্ষ্মীবাজার থেকে নগর ভবন পর্যন্ত ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা, ভিনটেজ গাড়ি ও পালকি নিয়ে শোভাযাত্রা এবং ৩০ আগস্ট লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব, ‘ঢাকা আড্ডা’ ও কাওয়ালিসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।
উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ২৯ আগস্ট বিকেল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় হওয়ার কথা রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করার কথা রয়েছে।
ডিএসসিসির পক্ষ থেকে নাগরিকদের শত ব্যস্ততার মধ্যেও ‘উৎসবে-গর্বে-দায়িত্বে’ ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উদযাপনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এমএইচ/এএস




