শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

দক্ষ শ্রমবাজারে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে লাওস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:০০ এএম

শেয়ার করুন:

দক্ষ শ্রমবাজারে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে লাওস
বাংলাদেশ ও লাওসের মধ্যে প্র্রথমবারের মতো কূটনৈতিক সংলাপ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও লাওসের মধ্যে প্রথমবারের মতো কূটনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তন ও উচ্চশিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিয়োগে শ্রম সহযোগিতার একটি সমঝোতা স্মারক প্রণয়নে সম্মত হয়েছে লাওস।

ভিয়েনতিয়েনে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ও লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকের (লাওস) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই কূটনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৮ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর এটিই প্রথম ফরেন অফিস কনসাল্টেশন।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম। লাওসের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আনুপার্ব ভংনরকেও।

সংলাপে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তন, কনস্যুলার সহযোগিতা ও উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে।

দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক এবং বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিয়োগে শ্রম সহযোগিতার বিষয়ে আরেকটি সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে সম্মত হয় দুই দেশ।

নবীন কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণ, পর্যটন সহযোগিতা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়। সাধারণ পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের অনুরোধ জানানো হলে লাওস ইতিবাচক সাড়া দেয়।

সংলাপে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উভয় পক্ষ মনে করে, দুই দেশের বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় কম। এ পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দুই দেশের ব্যবসায়ী ও শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সফর বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয়েছে উভয় পক্ষ। লাওস বাংলাদেশের ওষুধশিল্প ও কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের প্রতি লাওসের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে লাওসের অব্যাহত সমর্থন কামনা করা হয়।

বাংলাদেশকে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার করার বিষয়ে এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি)-এ যোগদানের ক্ষেত্রে লাওসের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ও লাওস। জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন কৌশল, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং এ–সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের প্রধানেরা একটি আউটকাম ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করেন। পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব ও প্রতিনিধি দলের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন লাওসের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর