মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ফিমা হত্যার দ্রুত বিচার ও আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ফিমা হত্যার দ্রুত বিচার ও আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

রাজধানীর আজিমপুরে তাহিয়া তাসনিম ওরফে ফিমা (১৯) হত্যা মামলায় আসামি কাজী সাগরসহ দায়ীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানান ফিমার স্বজনেরা।

ফিমার বাবা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। বিষয়টি ফিমা তার মাকেও জানিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি একসময় স্বাভাবিক হয়ে যাবে—এমন আশায় তাঁরা অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, তিনি শুধু তার মেয়ের জন্য এখানে দাঁড়াননি, অন্য ফিমাদের জন্যও দাঁড়িয়েছেন, যাদের হত্যা করা হয়েছে এবং যাদের পরিবার ন্যায়বিচার পায়নি।

image

তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার মামলাগুলো দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশকে এসব মামলা গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে এবং আদালতকে বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে।

কাজী সাগর দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যাতে দেশে নারী হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যায়।

মানববন্ধনে ফিমার মা রিনা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, মেয়েকে হারানোর পর বিচার পাওয়ার আশায় তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন। মামলার অভিযোগপত্র দিতে পুলিশ গড়িমসি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রিনা ইয়াসমিন বলেন, তাঁর মেয়েকে হত্যার পর তারা থানার বারান্দায় ঘুরছেন। অথচ হত্যাকাণ্ডের আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে এবং ময়নাতদন্তেও হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এরপরও কেন এত দেরি হয়েছে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মামলাটি প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রিনা ইয়াসমিন। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে আসামির শাস্তির দাবি জানান তিনি।

যেভাবে হত্যাকাণ্ড

গত ২০ মার্চ রাতে রাজধানীর আজিমপুরের বিসি দাস স্ট্রিটের একটি বাসা থেকে তাহিয়া তাসনিম ওরফে ফিমার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর তার স্বামী কাজী সাগর আত্মগোপনে চলে যান।

image

পরে ওই বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীর বক্তব্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ফিমা হত্যাকাণ্ডে কাজী সাগরের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায় বলে মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। এ ঘটনায় ফিমার বাবা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে কাজী সাগরকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন।

এরপর ২৭ মার্চ ভারতের নদীয়া জেলার গাংনাপুর থানা এলাকা থেকে কাজী সাগর, তার বাবা কাজী মনিরুল হক ও সাগরের মামা জাফর মিয়াকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ দিন কারাগারে থাকার পর তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

ফিমার পরিবারের অভিযোগ, দেশে ফেরার পর কাজী সাগর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন এবং হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তাকে এক দিনের জন্যও কারাগারে থাকতে হয়নি।

মানববন্ধন থেকে ফিমার পরিবার দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায়।

এমআইকে/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর