আদিবাসী পরিচয়কে বিভাজনের চোখে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বাস্তবতায় আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের সব জনগণই বাংলাদেশি। তাই কাউকে আদিবাসী পরিচয়ের বিভাজনের চোখে দেখার সুযোগ নেই।’
দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘সকল ধর্ম, বর্ণ, সংস্কৃতি ও ভাষাভাষীর মানুষ আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক অধিকার পুরোপুরি সমান এবং এই পরিচয়েই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই অঞ্চলে অতীতে যেমন ভিনদেশি উস্কানি ছিল, তেমনি এখনো বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্ত ও আশপাশের অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল নিজেদের স্বার্থে ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা করছে। তবে এই ভূখণ্ডের ঐতিহ্য বহুকালের। লক্ষণ সেন বা পাল বংশের বহু আগে থেকেই এ দেশের মানুষ নিজস্ব আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য সংগ্রাম করে আসছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র ও আধুনিক নেশন স্টেট হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এ দেশের নিজস্ব জাতিসত্তা বহুকালের পুরনো।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কেন নদী অববাহিকায় বাস করলাম, আর কেন আরেকজন পাহাড়ি উপত্যকায় বাস করল, তার ওপর ভিত্তি করে কোনো নেশন স্টেট হতে পারে না। তাই আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী হবো, আদিবাসী কেউ হবো না।’
জুলাই চার্টার নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই চার্টারে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে সবাই স্বাক্ষর করেছে। দলগুলোর মধ্যে যেসব দফায় কোনো দ্বিমত বা নোট অব ডিসেন্ট ছাড়াই ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরের সকল নাগরিকের মূল পরিচয় হবে বাংলাদেশি। এটি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর ভাষা, যা আগামী অষ্টম সংশোধনীতেও নিয়ে আসার জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা ও অঙ্গীকার রয়েছে।’
এসময় মন্ত্রী সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে বসবাসকারী সকল নাগরিকের সাংবিধানিক পরিচয় হবে বাংলাদেশি এবং কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের পেছনে না ছুটে দেশের সবাইকে আদিবাসী না হয়ে অধিবাসী হতে হবে।’
একইসঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলে সৃষ্ট ঐতিহাসিক বিভেদ ও ষড়যন্ত্রের পেছনে ভিনদেশি উস্কানি এবং আন্তর্জাতিক মহলের স্বার্থ রয়েছে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেস অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বাংলাদেশের জননীতিকে অভিবাসীদের চশমা দিয়ে দেখা যাবে না। কারও পাতানো ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। দেশের সব জনগণ সমান। বাংলাদেশে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই।’
এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সিএইচটি রিসার্স ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, এনসিপি নেতা সারজিস আলম, আইনজীবী তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান আহমেদ, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, ড. হাসাহাব এনাম খান, লে.জে. (অব) আবদুল্লাহিল আযমী, ড. আবদুল্লাহ আল ইউসুফ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী উপদেষ্টা মোহাম্মদ রাশেদ খান, লে. (অব) জেনারেল মাফফুজুর রহমান, ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান, ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী ও ড. মাহমুদ পারভেজ প্রমুখ।
এমআইকে/এএইচ



