ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সবার জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিকল্পনা কমিশন আয়োজিত এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়নের পথনির্দেশনা বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনের অংশ হিসেবে ‘ন্যায়সঙ্গত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং এসডিজির ৩, ৫, ৬ ও ১০ নম্বর লক্ষ্য অর্জন’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দেশের পানি ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তুলছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষির কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য পদ্মা ব্যারেজ অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। বিশেষজ্ঞদের মতামত পাওয়ার পর শিগগিরই এ মহাপরিকল্পনা অনুমোদন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, মানুষের জীবন-জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে পানি ব্যবস্থাপনায় অংশীজনদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান। প্রদান অতিতির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আনা মিঞ্জ।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পরিচালক পার্থ হেফাজ শেখ, নারীপক্ষের পরিচালক অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার সাইফুর রহমান।
এএইচ/এএইচ



