তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহে কোনো ধরনের গরমিল, অনিয়ম, অসঙ্গতি বা ম্যানিপুলেশন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনের বিবিএস অডিটোরিয়ামে নৌযান শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শুমারি সমন্বয়কারীদের চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও উপাত্ত অপরিহার্য। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণে সঠিক পরিসংখ্যানের কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গরমিল, অনিয়ম বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সময় পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সঠিক তথ্য ছাড়া বাস্তবভিত্তিক নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তাই তথ্য সংগ্রহের প্রতিটি ধাপে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর স্বার্থে তথ্য পরিবর্তন, গোপন বা বিকৃত করা যাবে না।’
নৌপথের গুরুত্ব তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার নৌপথকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হওয়ায় পণ্য পরিবহনে নৌপথের গুরুত্ব অনেক বেশি। নৌপথের কার্যকর ব্যবহার ও উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করা সম্ভব।’
তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং নৌযান শুমারি সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পেশাদারিত্ব ও সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি-২০২৬ পরিচালনা করা হচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সহযোগিতায় আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট দেশব্যাপী এ শুমারি অনুষ্ঠিত হবে।
শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের সংখ্যা, ধরন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এসব তথ্য নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। এছাড়া মূল শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শুমারি সমন্বয়কারীদের চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।ৎৎৎ
সংশ্লিষ্টরা জানান, নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌপরিবহন খাতের একটি নির্ভরযোগ্য চিত্র পাওয়া যাবে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নৌযান ব্যবস্থাপনা, নৌপথের উন্নয়ন এবং নিরাপদ নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর শফিউল বারী এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক।
এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন অধিদফতর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নৌযান শুমারি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ/এমআই




