সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল চালুসহ ৯ দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল চালুসহ ৯ দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি
রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ

অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল আধুনিকায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ ও রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালুর দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সারাদেশ থেকে আগত চিনিকল শ্রমিক ও আখচাষিরা অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়। পরবর্তীতে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েয় স্মারকলিপি প্রদান করে।

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটি’র আহ্বায়ক কামরুজ্জামান ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, জাতীয় গণফ্রন্টের আহ্বায়ক টিপু বিশ্বাস, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়জুল হাকিম, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন, শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক শামীম ইমাম, আখচাষি ও কৃষক নেতা আলতাফ হোসেন, কৃষক নেতা আব্দুস শুকুরসহ জাতীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন চিনিকলের শ্রমিক প্রতিনিধিবৃন্দ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বদরুদ্দোজা বাপন ও কাইয়ুম হোসেন।

সমাবেশে নেতারা বলেন, জনগণের অর্থ ও শ্রমে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মুনাফার জন্য ছেড়ে দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, বিনিয়োগের অভাব ও নীতিগত অবহেলার দায় জনগণের নয়। এসব সমস্যার সমাধান না করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

নেতারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলোকে পরিকল্পিতভাবে পুনরুজ্জীবিত ও আধুনিকায়ন করতে হবে। চিনিকল বন্ধের ফলে শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মহীন হয়েছেন, আখচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং দেশের কৃষি ও শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দুর্বল হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, উৎপাদন ব্যবস্থার সংস্কার, আখচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বহুমুখী উৎপাদনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় চিনিশিল্পকে লাভজনক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

সমাবেশে দেশের শিল্প ও কৃষির স্বার্থবিরোধী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানান নেতারা। তারা বলেন, কোনো বিদেশি শক্তির চাপ বা স্বার্থের কাছে দেশের শিল্প, কৃষি, শ্রমিক ও জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া যাবে না। জাতীয় অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থার স্বার্থে স্বাধীন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর জাতীয় কমিটির স্মারকলিপিতে ৯ দফা দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো-

১/ বন্ধকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আধুনিকায়ন ও পুনরায় চালু

২/ চিনিকলগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত সরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি

৩/ আখচাষিদের উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, স্বল্পসুদে কৃষিঋণ, উন্নতমানের আখবীজ, সার, সেচ ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা

৪/ মোলাসেস, ইথানল, বিদ্যুৎ, জৈবসারসহ চিনির উপজাতের বহুমুখী ব্যবহার ও উৎপাদনের মাধ্যমে চিনিকলগুলোকে লাভজনক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্পে পরিণত করা

৫/ শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া মজুরি-বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আইনানুগ পাওনা দ্রুত পরিশোধ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি

৬/ চিনিকলগুলোতে আখের পাশাপাশি সার, বীজ, সেচ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা

৭/ ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পসম্পদ ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর বা বেসরকারিকরণের চক্রান্ত বন্ধ

৮/ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে শক্তিশালী ও আধুনিকায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় শিল্পনীতি গ্রহণ

৯/মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত দেশের শিল্প ও কৃষির স্বার্থবিরোধী বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করা

এম/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর