শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বৃক্ষমেলায় গাছের সঙ্গে নজর কাড়ছে মাটির তৈজসপত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

বৃক্ষমেলায় গাছের সঙ্গে নজর কাড়ছে মাটির তৈজসপত্র
রাজধানীতে বৃক্ষমেলায় গাছের সঙ্গে মাটির তৈজসপত্র। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বৃক্ষমেলায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সারি সারি ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ। তবে এসব সবুজের ভিড়েও আলাদা করে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে মাটির তৈরি বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র। পরিবেশবান্ধব ও ঐতিহ্যবাহী এসব পণ্য কিনতে দর্শনার্থীদের আগ্রহও কম নয়।

মেলায় গাছের পাশাপাশি বিভিন্ন স্টলে বিক্রি হচ্ছে মাটির কলস, হাঁড়ি, পাতিল, থালা, বাটি, গ্লাস, মগ, ফুলদানি, টব, দই রাখার পাত্র, পানির জগ, প্রদীপ, শোপিসসহ নানা ধরনের সামগ্রী। অনেকেই গাছ কেনার পাশাপাশি বাসা সাজানো কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এসব পণ্যও কিনে নিচ্ছেন।

বিক্রেতারা জানান, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ায় মাটির তৈরি পণ্যের চাহিদাও বেড়েছে। বিশেষ করে যারা ছাদবাগান বা বারান্দায় গাছ লাগান, তারা গাছের সঙ্গে মানানসই মাটির টব ও শোপিস কিনতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

মেলায় আসা দর্শনার্থীদের অনেকের মতে, একই জায়গা থেকে গাছ ও ঐতিহ্যবাহী মাটির সামগ্রী কেনার সুযোগ থাকায় তাদের কেনাকাটা আরও সহজ হয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সী দর্শনার্থীরাই এসব পণ্যের স্টলে ভিড় করছেন। অনেকেই ছবি তুলছেন এবং দেশীয় কারুশিল্পের প্রশংসা করছেন।

বিক্রেতারা বলছেন, মাটির পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। ছোট প্রদীপ বা বাটি ৫০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। মাঝারি আকারের কলস, ফুলদানি বা টবের দাম ২০০ থেকে ৮০০ টাকা। নকশা ও আকারভেদে বড় শোপিস কিংবা বিশেষ কারুকাজ করা পণ্যের দাম এক হাজার টাকারও বেশি।

কারুশিল্পীরা জানান, এসব পণ্য তৈরিতে স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়। দক্ষ কারিগরদের হাতে তৈরি প্রতিটি পণ্যে থাকে নিজস্ব নকশা ও বৈচিত্র্য। ফলে এগুলো শুধু ব্যবহার্য সামগ্রী নয়, ঘর সাজানোর উপকরণ হিসেবেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

মেলা আয়োজকদের মতে, বৃক্ষমেলার মূল উদ্দেশ্য সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হলেও দেশীয় কুটিরশিল্প ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রচারও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাই গাছের পাশাপাশি মাটির তৈরি সামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের বৃক্ষমেলায় গাছের পাশাপাশি মাটির তৈরি ঐতিহ্যবাহী তৈজসপত্রও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সবুজের বার্তার সঙ্গে দেশীয় সংস্কৃতি ও কারুশিল্পের এই সমন্বয় মেলায় ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।

এম/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর