শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

অভিযানের সময় আসামির মৃত্যু, পরিবারের দাবি ধাক্কা দিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

অভিযানের সময় আসামির মৃত্যু, পরিবারের দাবি ধাক্কা দিয়ে হত্যা
নিহত নজরুল ইসলাম। - ফাইল ছবি

রাজধানীর বেইলি রোডে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে গিয়ে এক রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশি অভিযানের সময় ৯ তলার বেলকুনি থেকে নিচে পড়ে নির্মমভাবে মৃত্যু হয় তার। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য ধাক্কা দিয়ে তাকে নিচে ফেলে হত্যা করেছেন। 

নজরুল ইসলাম ওই ভবনের নবম তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। তবে অভিযানের ওই কয়েক মিনিটে ঠিক কী ঘটেছিল? তিনি কি দুর্ঘটনাবশত নিচে পড়ে যান, নাকি তাকে ফেলে দেওয়া হলো- তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।​ অভিযানের আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। 

পাশাপাশি, দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসআই মোহাইমিনুল হাসান মাফি কাউকে সন্তুষ্ট করতে অতি-উৎসাহী ভূমিকা পালন করেছিলেন কিনা সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রধান আসামি রওশন আরা সামনে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেন দুই নং আসামি নজরুলকে গ্রেফতারে এত তৎপরতা দেখালো?- প্রশ্ন তোলেন নজরুল ইসলামের আইনজীবী মো. বাচ্চু।

​ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার আনুমানিক রাত ১২টা ১২ মিনিটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রমনা থানা পুলিশের তিন কর্মকর্তা ও এক সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি বেইলি রোডের ওই ভবনে প্রবেশ করেন। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন রমনা থানার এসআই মোহাইমিনুল হাসান মাফি।

ভবনটির প্রহরী আনিসুর রহমান জানান, পুলিশ সদস্যরা সরাসরি উপরে উঠে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি বিকট শব্দ শোনেন তিনি।

​নিহত নজরুলের স্ত্রী ও দুদকের মামলার প্রধান আসামি রওশন আরার অভিযোগ, ‘সাদা গেঞ্জি পরিহিত এসআই মোহাইমিনুল হাসান মাফি নিজ হাতে ধাক্কা দিয়ে আমার স্বামীকে নিচে ফেলে হত্যা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘গভীর রাতে পুলিশ এসে ঘরে তল্লাশি শুরু করলে ভয়ে আমার স্বামী গ্রিলের চাবি খুলে সানসেটের দিকে আশ্রয় নেন। কিন্তু সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্য সেখানে গিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত হত্যা।’

অন্যদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম পরিবারের এই অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘নজরুল ইসলাম গ্রিল কেটে তৈরি করা দরজা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সানসেটে নিজেকে আত্মগোপন করছিলেন। পুলিশ তাকে ভেতরে চলে আসতে বললে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান।’

উল্লেখ্য, মামলার প্রধান আসামি নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী রওশন আরা ১ কোটি ৪ লাখ ৮১ হাজার ৭৩৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ২ নম্বর আসামি নজরুল ইসলাম তাতে সহযোগিতা করেছেন। এর আগে একই অভিযোগে দুদকের একটি অনুসন্ধান থেকে তথ্য প্রমাণিত না হওয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালে পুনরায় এ সংক্রান্ত মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়।

এমআইএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর