‘আওয়ামী লীগ আমাদের শত্রু নয়, তারা আমাদের মিত্র। আমরা তাদেরকে নিয়ে একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। অচিরেই আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে মিশে যাবে।’ সুনামগঞ্জ-২ আসনের (দিরাই ও শাল্লা) সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর এমন বক্তব্যে রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) বিকেলে সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার থানা পয়েন্টে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এটা নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। নানাজন এই বক্তব্যের নানা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে নাছির চৌধুরীর পারিবারিক বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। আগামীকাল শনিবার তার ভাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুক চৌধুরী উপজেলা সদরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পৃথক সমাবেশ ডেকেছেন। এ প্রসঙ্গে জুলাই স্মরণে আয়োজিত সমাবেশে নাছির চৌধুরী বলেন, ‘আজকের এই সমাবেশই বিএনপির মূল সমাবেশ। এর বাইরে বিএনপির আর কোনো সমাবেশ নেই। আগামী ৮ তারিখে বিএনপির নামে যারা আলাদা সমাবেশ করতে চাচ্ছে, তারা মূলত দলে বিভক্তি আনতে চায়। এদের সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
ছোট ভাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো ভাই নেই, আমি একা। এমনকি আমার বাসাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যারা দলের নাম ভাঙিয়ে চুরি-দুর্নীতি করার সুযোগ পাচ্ছে না, তারাই মূলত আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
নাছির চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমি নাকি লাখ লাখ টাকা লুটপাট করে খাচ্ছি। যারা এসব কথা বলে, তাদেরকে প্রশ্ন করুন—আসলে কত টাকা বাজেট এসেছে? প্রয়োজন হলে ইউএনওর কাছে গিয়ে খোঁজ নিন।’
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে প্রবীণ এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি যতদিন জীবিত আছি, কাউকে কোনো প্রকার দুর্নীতি করার সুযোগ দেব না।’
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সদস্য ফারুক সরদার, সাব্বির মিয়া, মুজিবুর রহমান, নুরুল হক তালুকদার, আবু সাঈদ চৌধুরী, সজীব রশিদ চৌধুরী, নাছির চৌধুরীর স্ত্রী পারভিন চৌধুরী প্রমুখ।
জেবি




