আসন্ন ২৩-তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নির্বাচনে ভোটার হিসাবে রয়েছে আলোচিত সংসদ সদস্য সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (০৬ জুলাই) রাতে ইসি সচিব আখতার আহমেদের প্রকাশ করা ভোটার তালিকা থেকে এ তথ্য জানা যায়।
ভোটার তালিকার গেজেট অনুযায়ী, ৩৪৯ জন ভোটার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এদের মধ্যে সংসদের সাধারণ আসনের সদস্য ২৯৯ জন। আর সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন। চট্টগ্রাম-৪ আসন এ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কারণ উচ্চ আদালত ওই আসনের জয়ী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন। এছাড়া সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নামও এখানে আছে।
আইন অনুযায়ী, অন্যান্য নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার যে দায়িত্ব পালন করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে সিইসি'র একই দায়িত্ব।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর যোগ্যতা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে, বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং বয়স হতে হবে কমপক্ষে ৩৫ বছর।
এছাড়াও সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকবে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ (Representation of the People Order, 1972) অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে কোনো ব্যক্তি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন।
আরপিও অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক ফেরারি বা পলাতক আসামি হিসেবে ঘোষিত ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। প্রজাতন্ত্রের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের অধীনে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলেও তিনি প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন।
কোনো কোম্পানির পরিচালক বা ফার্মের অংশীদার হিসেবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ বা তার কোনো কিস্তি মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ পর্যন্ত পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
এছাড়া কৃষিকাজের জন্য নেওয়া ক্ষুদ্র কৃষিঋণ ছাড়া অন্য যে কোনো ব্যাংক ঋণ বা তার কিস্তি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে পরিশোধে ব্যর্থ হলেও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতা সৃষ্টি হবে।
সরকারি টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বা অন্য কোনো সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল মনোনয়নপত্র দাখিলের পূর্বে পরিশোধ না করলেও প্রার্থী হওয়া যাবে না।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি হলফনামা এবং সর্বশেষ করবর্ষের আয়কর রিটার্নের অনুলিপি জমা দিতে হবে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর ৯(১) ধারার অধীনে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (Formal Charge) দাখিল হলে, একই আইনের ২০সি(১)(এ) ধারা অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বা সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
নির্বাচন পদ্ধতি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে এই নির্বাচন পরিচালনা করবেন। এজন্য একটি জাতীয় সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নির্বাচনি কর্তা সভাপতিত্ব করবেন।
সংসদের অধিবেশন চলাকালে নির্বাচনের প্রয়োজন হলে কমিশন ভোটগ্রহণের অন্যূন সাতদিন পূর্বে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করবে। আর সংসদ অধিবেদশ না থাকলে ভোটগ্রহণের দিনে স্পিকারের সঙ্গে অনূন্য সাতদিন পূর্বে আলোচনা করে সংসদের বৈঠক সরকারি প্রজ্ঞাপন দ্বারা আহ্বান করবে। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনার পরই ইসি ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে।
মনোনয়নপত্র দাখিল
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাবক ও একজন সংসদ সদস্যের সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর থাকতে হবে। এছাড়া যিনি মনোনীত হবেন মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সম্মতিসূচক তারও একটি বিবৃতি থাকতে হবে। এই নির্বাচনে ভোটার হবেন সংসদ সদস্যরা। কমিশন একটি ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে।
ভোটগ্রহণ
ইসির তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনি কর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট ১০ টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাইয় ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ অগাস্ট। সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত।
আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে
বৈধ একাধিক প্রার্থী থাকলে এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন শেষে একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদের বৈঠকে নির্ধারিত দিনে দুপুর ১২টার পর ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ যেমন প্রকাশ্যে হবে, তেমনি ভোট গণনাও প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
সর্বোচ্চ ভোট যদি একাধিক প্রার্থী পেয়ে যান, তবে তাদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার ভোটের ফলাফল নির্ধারণ করবেন। ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণাই চুড়ান্ত। আর একাধিক বৈধ প্রার্থী না থাকলে প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ দিন অতিবাহিত হলে সংশ্লিষ্ট একক প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
গত ২৪ জুলাই ২২-তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণে দেখিয়ে পদত্যাগ করলে স্পিকার তা গ্রহণ করেন। সেই থেকে স্পিকার পরবর্তী রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করার পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। এরপর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গাজী নজরুলকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এমএইচএইচ/এআরএম




