বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

১১ দলের কর্মসূচি ঘিরে গুলিস্তানে তীব্র যানজট

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

১১ দলের কর্মসূচি ঘিরে গুলিস্তানে তীব্র যানজট

জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান কর্মসূচি, সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা ও পুলিশের ব্যারিকেডকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুলিস্তান, পল্টন ও জিরো পয়েন্ট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এসব এলাকায় যানবাহনের ধীরগতি ও দীর্ঘ সারির কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়।

এদিন সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর পল্টন জিরো পয়েন্ট এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেন। জামায়াতের নারী কর্মীদের হাতে গ্যাসের চুলা ও রান্নার পাতিল দেখা যায়।

অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে ১০ দফা জনদাবি ঘোষণা করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কথিত ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে গণশুনানি, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ, ডিমান্ড চার্জ ও অযৌক্তিক ফি বাতিল, বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া।

এ ছাড়া গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, কূপ খনন, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম পর্যালোচনা, গ্যাসের সিস্টেম লস ও চুরি বন্ধ, পুরোনো পাইপলাইন সংস্কার এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

অবস্থান কর্মসূচি শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করলে জিরো পয়েন্ট এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। এ সময় সচিবালয়ের সব গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন গেটের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গেট বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় কাজে আসা সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়েন।

সচিবালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি। সম্মানের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধির হাতে আমাদের দাবি তুলে দিতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আজ শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশেই একই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। সরকারের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধি এলে আমরা জনগণের দাবি তাদের হাতে তুলে দেব। কিন্তু জনগণের দাবি উপেক্ষিত হলে আন্দোলনের কর্মসূচি চলমান থাকবে।’

কর্মসূচিতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

টিএই/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর