বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নাম ব্যবহার করে স্বঘোষিত ও অননুমোদিত কমিটির পরিচয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটির বর্তমান গঠনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ও স্বীকৃত কমিটি।
বুধবার (৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মো. আলমগীর জাহান, পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মো. ইমাউল হক (পিপিএম), পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মো. শফিকুল ইসলাম রাজা এবং পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মো. হাসানুজ্জামানসহ কয়েকজন ব্যক্তি স্বঘোষিত ও অননুমোদিত কমিটির পরিচয়ে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নামে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, প্রাপ্ত তথ্য ও নথিপত্র অনুযায়ী, তারা বৈধ কমিটির কোনো অনুমোদন ছাড়াই সংগঠনের নাম, পদবি ও সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচার, বিভেদ সৃষ্টি, ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন। এসব কর্মকাণ্ড সংগঠনের গঠনতন্ত্র, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ করছেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তা, সদস্য ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান ও পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তথ্যের নিরাপত্তা, সদস্যদের পারস্পরিক আস্থা এবং পেশাগত শৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে দাবি করা হয়।
সংগঠনটির ভাষ্য, এসব কার্যক্রম পুলিশ বাহিনীর মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থিতিশীলতা বিনষ্টের অপচেষ্টার শামিল। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টার সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের সম্পৃক্ততার অভিযোগও বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে এসেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন দাবি করে, বর্তমান গঠনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ও স্বীকৃত কমিটিই সংগঠনের একমাত্র বৈধ ও কার্যকর কমিটি। এ কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংগঠনের নাম, অফিসিয়াল প্যাড, পদবি বা সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার কিংবা সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করার কোনো আইনগত বা সাংগঠনিক এখতিয়ার নেই।
এ অবস্থায় স্বঘোষিত কমিটির পরিচয় ব্যবহার, সংগঠনের নাম ও পরিচয়ের অপব্যবহার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন, পুলিশ বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং তথ্য পাচারের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
টিএই/এএইচ




