মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বাংলাদেশ-জাপান বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে কাজ চলছে: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

বাংলাদেশ-জাপান বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে নিতে কাজ চলছে: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ আগামী কয়েক বছরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। 

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) এবং জাপানের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাপানের ওসাকায় জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন সেমিনারে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের যৌথ লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরে এ বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে জাপান প্রায় ৩০০ কোটিরও বেশি ভোক্তার একটি বৃহৎ আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশাধিকার অর্জন করতে পারবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কেবল একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানের মধ্যকার একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে। 

পাশাপাশি জাপানের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, জাপানের মেইজি পুনর্গঠনের অভিজ্ঞতা শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি জাতির রূপান্তরের অনুকরণীয় উদাহরণ। বাংলাদেশও জ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়।

ববি হাজ্জাজ জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি ছিল এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তা ৪ দশমিক ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ৭ কোটিরও বেশি তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক শক্তি। মাথাপিছু আয় ৩ হাজার মার্কিন ডলার অতিক্রম করায় অভ্যন্তরীণ বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

সেমিনারে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে যন্ত্রপাতি ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, শিল্প উপাদান, অটোমোবাইল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিকস, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন, রোবটিকস, শিক্ষা প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন তিনি।

সেমিনারে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, জেট্রো ও ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জাপানের হাউস অব কাউন্সিলরসের সদস্য ফুতোশি ওকাজাকি, সাইফার-কোর কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোটোইউকি ওদাচি এবং জাপানের শতাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর