ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করে চক্রাকার নৌপথে বেসরকারি উদ্যোগে ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনার কথা জানালেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, ‘এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো নির্ধারিত কাজ দ্রুত শেষ করতে পারলে রাজধানীর চক্রাকার নৌপথে বেসরকারি উদ্যোগে ওয়াটার বাস চালু করা সম্ভব হবে।’
রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, ‘ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করে ওয়াটার বাসসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচলের উপযোগী করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নদীর নাব্যতা রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলোও এই পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে। এসব কাজ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর ও সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দুই থেকে তিন মাস পর আবারও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হবে। ওই বৈঠকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। সমন্বিতভাবে কাজ এগোলে রাজধানীর নদীপথকে আবারও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থায় রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।’
নদীপথে নিচু সেতুর বিষয়েও কথা বলেন শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, টঙ্গীর রেলসেতুসহ কয়েকটি সেতুর নিচ দিয়ে ওয়াটার বাস চলাচল সম্ভব নয়। সড়ক সেতুর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে সেগুলো উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তবে রেলসেতু উঁচু করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই যেসব স্থানে এ ধরনের সমস্যা থাকবে, সেখানে যাত্রীদের এক পাশ থেকে নেমে অন্য পাশে গিয়ে আবার ওয়াটার বাসে ওঠার ব্যবস্থা রাখা হতে পারে।’
আগের ওয়াটার বাস প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিসির ৫৭ কোটি টাকা লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে যাত্রী স্বল্পতা, নদীদূষণ এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়াটার বাস পরিচালনা করতে না পারাকেই লোকসানের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতীতের সীমাবদ্ধতা ও সমস্যাগুলো দূর করেই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপাতত এ প্রকল্পের জন্য আলাদা কোনো বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে প্রকল্পের অগ্রগতি বিবেচনায় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে।’
ওয়াটার বাস চালুর সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি সমন্বিত উদ্যোগ। বিভিন্ন দফতরের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে, তত দ্রুত ঢাকার চক্রাকার নৌপথে বেসরকারি উদ্যোগে ওয়াটার বাস চালু করা সম্ভব হবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নদীপথের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট কমানোর পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য একটি বিকল্প, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এএইচ/এএইচ




