শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ফিরে দেখা ৩২ জুলাই: ছয় সমন্বয়ককে মুক্তি, নিষিদ্ধ হয় জামায়াত-শিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫০ এএম

শেয়ার করুন:

ফিরে দেখা ৩২ জুলাই: ছয় সমন্বয়ককে মুক্তি, নিষিদ্ধ হয় জামায়াত-শিবির
ছবি: সংগৃহীত

কোটা প্রথার বিরুদ্ধে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন একদিন, দুইদিন করে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৩২ দিনে গড়ায়। দিনটি ছিল ১ আগস্ট। তবে সে সময় দিনটিকে ‘৩২ জুলাই’ হিসেবে উল্লেখ করা হতো। 

এদিন শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা ছয় শীর্ষ সমন্বয়ক মুক্তি পেয়ে বাসায় ফেরেন। শিক্ষার্থীরা ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি পালন করেন। একই দিন নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

২০২৪ সালের এই দিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

এর আগে, ৩১ জুলাই ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এতে বলা হয়, নির্যাতনের ভয়ংকর দিন-রাতের স্মৃতিচারণ, নিহত ও আহতদের নিয়ে পরিবার ও সহপাঠীদের স্মৃতিচারণ এবং আন্দোলন ঘিরে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে চিত্রাঙ্কন বা গ্রাফিতি, দেয়াললিখন, ফেস্টুন তৈরি ইত্যাদির মাধ্যমে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অনলাইন ও অফলাইনে এ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়।

এদিন সব হত্যার বিচার এবং চলমান হত্যা, সহিংসতা, গণগ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে ১ আগস্ট রাজপথে নামেন শিল্পীরা। সকাল ১১টায় শিল্পীদের মানববন্ধনে দাঁড়ানোর কথা ছিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ তথা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে। 

পৌনে ১১টার দিকে খামারবাড়ি মোড়ে এসে পুলিশি বাধায় আটকে যান তারা। পরে সংসদ ভবনের সামনে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হওয়ার পর খামারবাড়ি মোড় থেকে বৃষ্টিতে ভিজে উপস্থিত শিল্পীরা ব্যানার হাতে স্লোগান দিতে দিতে এসে রাজপথে ফার্মগেটের সেজান পয়েন্টের সামনে দাঁড়ান।

ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ছয় সমন্বয়কের একজন সারজিস আলম সে সময় ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে বলেছিলেন, ‘ছয় দিন ডিবি হেফাজতে ছয়জনকে আটকে রাখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের পুরো তরুণ প্রজন্মকে আটকে রাখবেন কীভাবে? যত দিন গণগ্রেপ্তার, জুলুম ও নির্যাতন চলবে, তত দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও চলবে।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে সরকার। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১ আগস্ট বিকেলে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্য দিয়ে দল দুটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির সাম্প্রতিককালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি এবং উসকানির মাধ্যমে জড়িত ছিল বলে সরকারের কাছে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে, জামায়াতে ইসলামী, শিবিরসহ এর সব অঙ্গসংগঠন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত।

অবশেষে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে সামরিক হেলিকপ্টারে করে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

এমএইচএইচ/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর