- সেই এজেন্সিকে খুঁজছে গোয়েন্দারা
- এ বিষয়ে বিমানের কেউ মুখ খুলছে না
মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইটের ছয় যাত্রীর পাসপোর্টে জাল ভিসা শনাক্ত হওয়ার পর তাদের অফলোড করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা অন্য যাত্রীরা তখন বিমানবন্দর থেকে চলে যান। ঘটনার ২৬ দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা অভিযোগ হয়নি।
গত ৫ জুলাই রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। ফ্লাইটটির গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এজেন্সির খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)। তবে তদন্তের স্বার্থে এজেন্সিটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
জানা গেছে, সেদিন রাতে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য ৭১ জন যাত্রী একত্র হন। শুরু হয় টিকিট, ভিসা ও পাসপোর্ট চেকিং। তাদের মধ্যে ছয়জনের ভিসা ও পাসপোর্ট চেকিং করতে গিয়ে অসংগতি ধরা পড়ে। তাদের একজনকে পৃথক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বাকিরা একে একে বিমানবন্দর থেকে মুহূর্তে কেটে পড়েন। এরপর ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি বাকি যাত্রীদের নিয়েই দেশটির উদ্দেশে রওনা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে এমন ঘটনা ঘটে। রহস্যজনক কারণে সেই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা বা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে শুক্রবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা রোশরা ইসলামকে কয়েকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি বিমানের এমডি ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদকে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেই ফ্লাইটে ২৪৫ জন যাওয়ার কথা ছিল। যে পাঁচজনের ভিসা ও পাসপোর্টে অসংগতি পাওয়া গিয়েছিল, তাদের বিমানবন্দর থেকে অফলোড করা হয়। কিন্তু এ ঘটনায় বাকিরা আর তাদের পাসপোর্ট চেক করাননি। তারা ভয়ে দ্রুত বিমানবন্দর থেকে সটকে পড়েন। যদিও বিমানবন্দরে পাসপোর্ট ও ভিসা চেকের দায়িত্বে থাকা এসবির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত লোকজন বিমানবন্দর থেকে পালায়নি। তারা পাঁচ থেকে ছয়জনের পাসপোর্টে জাল ভিসা পেয়েছিলেন। তবে তারা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
বিমানবন্দরে স্বাভাবিকভাবে কোনো অপ্রীতিকর বা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলে নিকটস্থ বিমানবন্দর থানায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা দপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়ে থাকে। কিন্তু এ ঘটনার ২৬ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসবির একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। কিন্তু এই মুহূর্তে এজেন্সির নাম প্রকাশ করা হবে না। আমরা কেন সেই এজেন্সি এমন কাজ করল, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, কবে থেকে তারা এমন কাজ করে আসছিল—তা খতিয়ে দেখছি।
আরও জানা গেছে, সেই যাত্রীদের মালয়েশিয়ায় ট্যুরিস্ট সাজিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু ছয়জনের পাসপোর্টে থাকা ভিসা জাল শনাক্ত হওয়ার পর অন্যরা ভয়ে লাইন থেকে কেটে পড়েন। এরপর তাদের আলাদা করে এসবির কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তারা তখন জানান, তারা মালয়েশিয়া হয়ে সৌদিতে ওমরা করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তাদের আর পরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ। পরে অধিক জিজ্ঞাসাবাদে আসল তথ্য বেরিয়ে আসে। মূলত তাদের ট্যুরিস্ট হিসেবে নেওয়া হচ্ছিল। সেখানে যাওয়ার পর তাদের বিভিন্ন জায়গায় ছেড়ে দেওয়া হতো। এরপর তারা নিজেদের মতো করে কাজ খুঁজে থেকে যেতেন।
সাধারণত বিমানবন্দরে জাল ই-ভিসা শনাক্ত করার দায়িত্বে থাকে ইমিগ্রেশন পুলিশ, অর্থাৎ এসবির সদস্যরা। তাদের গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া কেউ সর্বশেষ ধাপে পৌঁছাতে পারেন না।
এ ঘটনায় মামলা ও তদন্ত কমিটি হয়েছে কি না, এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ।
তিনি বলেন, যেহেতু তারা বিমানের টিকিট কেটেছিলেন, তারা এ বিষয়ে কোনো কিছু করেছেন কি না, জানা নেই।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি মির্জা তারেক আহমেদ বেগ ঢাকা মেইলকে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। আর এমন ঘটনায় মামলা হলে তা তার নজরে থাকত।
পরে বিমানবন্দর থানায় খোঁজ নেওয়া হলে তারা জানান, ঘটনাটি তারা জেনেছেন, কিন্তু কেউ কোনো মামলা বা অভিযোগ করেনি।
এমআইকে/এআর




