বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে যাবেন তারেক রহমান। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে মালয়েশিয়া ও চীনে সফল সফর দিয়ে আসেন রাষ্ট্রপ্রধান।
তারপরও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে প্রশ্ন আসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কাছে।
যদিও প্রধানমন্ত্রী কবে নাগাদ ভারত সফর করতে পারেন, সেই দিনক্ষণ জানাননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভবিষ্যতে সফরে যেতে পারেন, এমনটাই শুধু জানিয়েছেন।
গত মাসে চীন সফরে গিয়ে দেশটির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হলেও অন্য দেশের সঙ্গে যে সম্পর্কে ভাটা পড়েনি, সে কথাও জানিয়ে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশ এক সম্পর্ক ভেঙে আরেক সম্পর্ক গড়বে না, সে কথাও উল্লেখ করেন।
খলিলুর রহমানের ভাষায়, ‘কারও সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন হওয়ার মানে এই নয় যে, আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। চীনের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ভালো একটি সফর হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতে যান, সেই সফরটিও অত্যন্ত ভালো হবে আশা করি।’
তিনি জানান, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে শুধু একটি দেশের নয়, বহু দেশের সম্পর্ক আছে। এটা হচ্ছে স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক। যেখানে আমাদের স্বার্থ থাকবে, আমরা সেখানেই যাবো। সব দেশের সঙ্গেই আমাদের নিজস্ব স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে এবং স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে আমরা সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা করছি।’
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সখ্য নিয়ে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কূটনীতিতে আমরা আন্দাজে কাজ করি না। বাস্তবতার ভিত্তিতে কাজ করি, এটা মনে রাখতে হবে। আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর ভিত্তি করে চলি না।’
প্রসঙ্গত, গত ২১ জুন প্রতমে মালয়েশিয়া সফরে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সফরের কয়েকদিন পরই দেশটির সঙ্গে খুলে গেছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে যেটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল।
মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী যান চীনে। সেখানে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের তিস্তা চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সবমিলিয়ে দুই দেশে সফল সফর শেষ করে দেশে ফিরে আসেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
এএইচ




