২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী দুই বছরে দেশে ২৯৬৩টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ৫ আগস্ট পরবর্তী ৫ মাসে ৭৩.৭ শতাংশ ঘটনা ঘটে। আর ২০২৫ সালে মোট ঘটনার ১৭.৬ শতাংশ ও ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সংঘটিত হয়েছে ৮.৭ শতাংশ।
সোমবার (২৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের সহিংসতার মাত্রা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৪.২ গুন বেশি ছিল। মোট সহিসংতার প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা। আর মোট সহিংসতার প্রায় ১০ শতাংশ ছিল ধর্মীয় উপাসনালয়কে কেন্দ্র করে। প্রতি ২১টি ঘটনায় গড়ে একজন মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রতি ১০টি ঘটনার মধ্যে প্রায় একটি ধর্মীয় স্থাপনার উপর হামলা ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত মোট ২৩ মাসে ২০৫৫টি ঘটনায় বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বহু পরিবার জীবিকা হারিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সংকটে পড়েছে। সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর ও বাস্তুচ্যুতি বৃদ্ধি পেয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে, সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে, ধর্মীয় সম্প্রীতির অবক্ষয় ঘটেছে, আইন ও বিচার ব্যবস্থার আস্থা হ্রাস পেয়েছে।
২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ঘটনার চিত্র তুলে ধরে তুলনামূলক পর্যালোচনা করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোট ঘটনার সংখ্য্যা পরবর্তী ১৮ মাসে কমলেও হত্যাকাণ্ড, নারী নির্যাতন, সম্পত্তি দখল এবং ধর্মঅবমাননার অভিযোগে হয়রানীর ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, সহিংসতা গণআক্রমণ থেকে লক্ষ্যভিত্তিক নির্যাতনে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্যে একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
বিগত ৬ মাসে চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই সময়য়ে সারা দেশে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪০টি ঘটনায় হত্যার শিকার ৪৪ জন; নারী নির্যাতন/ধর্ষণ/গণধর্ষণ ৫টি; অপহরণ/চাঁদা দাবি/নির্যাতন ১০টি।
একই সময়ে হামলা/হত্যার হুমকি/নির্যাতন ৪২টি; উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ৬২টি; উপাসনালয়ের জমি দখল/দখলের চেষ্টা ১৫টি; বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ৪৭টি; কথিত ধর্মঅবমাননার অভিযোগে গ্রেফতার ও নির্যাতন ৯টি; জোরপূর্বক বাড়িঘর, জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল ২১টি; অন্যান্য ৬টি ঘটনা ঘটেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ৮ টি দাবি জানানো হয়। অন্যতম দাবিগুলো হলো- সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন; জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন; অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ প্রয়োগে যাবতীয় আমলাতান্ত্রিক বাধা অপসারণ করে ট্রাইব্যুনালের রায়ের আলোকে জমির মালিকানা ও দখল ভুক্তভোগীদের বরাবরে অনতিবিলম্বে প্রত্যর্পণ।
ঐক্য পরিষদের সভাপতি মি. নির্মল রোজারিও’র সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ।
এসময় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, মিলন কান্তি দত্ত, রঞ্জন কর্মকার, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, হীরেন্দ্রনাথ সমাজদার হীরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র নাথ বসু, সাংগঠনিক সম্পাদক দিপংকর ঘোষ, পদ্মাবতী দেবী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এএম/এএইচ



