চশমা পরেও চোখে কতটা স্পষ্ট দেখবেন, সেটা অনেকটাই নির্ভর করছে আপনি চশমার কতটা যত্ন নিচ্ছেন তার ওপর। শুধু দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখার মাধ্যমেই নয়, চশমা এখন ফ্যাশনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেতাদুরস্ত এসব চশমার দামও প্রচুর হয়ে থাকে। তবে অনেকেই অভিযোগ করেন যে অল্প কদিনেই নতুন চশমায় স্ক্র্যাচ বা আঁচড় পড়ে যায় এবং দামি জিনিসটি নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন যে চশমা পরিষ্কারের ভুল পদ্ধতির কারণেও এর গুণমান নষ্ট হতে পারে। কিছু জিনিস দিয়ে চশমা মুছলেই লেন্সের বারোটা বেজে যেতে পারে।
সাধারণত জামাকাপড়, কাগজের তোয়ালে, টিস্যু কিংবা বাড়ির জানালা পরিষ্কারক লেন্স মোছার কাজে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এই উপাদান এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থগুলো খুব সহজেই লেন্সের ওপর সূক্ষ্ম আঁচড় সৃষ্টি করে এবং এর সুরক্ষামূলক আবরণ বা কোটিং নষ্ট করে দেয়।
অনেকেরই অভ্যাস থাকে যখন-তখন পরনের শার্ট, ব্লাউজ বা কাপড়ের কোণা দিয়ে চশমা মুছে ফেলা। কিন্তু এই ধরনের কাপড়ে ঘর্ষণকারী তন্তু এবং আটকে থাকা ধূলিকণা থাকে, যা লেন্সে খুব সহজেই দাগ ফেলে দেয়। তাই চশমা মোছার এই বদভ্যাসটি বর্জন করা জরুরি।
কাগজের তোয়ালে, ন্যাপকিন, টিস্যু এবং টয়লেট পেপার মূলত কাঠের মণ্ড থেকে তৈরি হয়, যা প্লাস্টিক ও কাচের লেন্সের ওপর অত্যন্ত মিহি স্যান্ডপেপারের মতো কাজ করে। তাই ভুলেও কখনো এই ধরনের কাগজজাত পণ্য দিয়ে চশমা মোছার ভুল করবেন না।
উইন্ডো স্প্রে, অ্যামোনিয়া, ব্লিচ এবং ভিনেগারের মতো গৃহস্থালি পরিষ্কারক দ্রব্যে এমন কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা লেন্সের অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ ও ইউভি কোটিং নষ্ট করে দেয়। ফলে এই ধরনের উপাদান দিয়ে চশমা পরিষ্কার করতে গেলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়।
টুথপেস্ট এবং বেকিং সোডার মিশ্রণ লেন্সের উপরিভাগের আঁচড় দূর করার পরিবর্তে উল্টো কাচের মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই এই ধরনের জিনিস ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকাই ভালো।
এছাড়া যেকোনো শুকনো জিনিস দিয়ে চশমার লেন্স ঘষলে তাতে আগে থেকে আটকে থাকা ধূলিকণাগুলো লেন্সের ওপরের স্তরে ঘষা খেতে থাকে। এর ফলে খুব সহজেই চশমার কাচে স্ক্র্যাচ পড়ে যায় এবং লেন্স ঝাপসা হয়ে যায়।
এজেড




