শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

হৃদরোগ-কিডনি জটিলতায় ভুগছেন, মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে যান সাহাবুদ্দিন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

হৃদরোগ-কিডনি জটিলতায় ভুগছেন, মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে যান সাহাবুদ্দিন
মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

শারীরিক অসুস্থতা ও দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি জানিয়েছেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ একাধিক রোগে ভুগছেন তিনি। সম্প্রতি ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগ শনাক্ত হওয়ায় মাঝেমধ্যেই তিনি ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে পাঠানো পদত্যাগপত্রে এসব কথা উল্লেখ করেন সাহাবুদ্দিন।

পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ নেওয়ার পর থেকে নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হলে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চান। পরে আপিল বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। সেই সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে এবং নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

আরও পড়ুন

পদত্যাগপত্রে কী লিখেছেন সাহাবুদ্দিন

বঙ্গভবন ছেড়ে কোথায় উঠছেন সাহাবুদ্দিন

পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন দাবি করেন, তার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি। বর্তমানে সরকার ও বিরোধী দল সংসদে গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে নিজের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে তার। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ ধরা পড়েছে, যার কারণে মাঝেমধ্যে তিনি ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে যান।

সাহাবুদ্দিন বলেন, এসব রোগের কারণে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের ফলে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

টিএই/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর