হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ এবং দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্থায়ী করাসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, দেশের পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও হরিজন জনগোষ্ঠী এখনও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি লেবু বাসফোর, মহাসচিব বিমল ডোম, সাবেক সভাপতি কৃষ্ণলাল, উপদেষ্টা বাইজু লাল সরদার এবং জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কৃষ্ণচরণ কুঞ্জমালসহ সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা লাভের দীর্ঘ সময় পরও হরিজন জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, আবাসন এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক অধিকার থেকে তারা অনেকাংশে বঞ্চিত। অথচ দেশের শহর ও নগরের পরিচ্ছন্নতা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং নাগরিক সেবায় এ জনগোষ্ঠীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই উন্নয়নের মূলধারায় তাদের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও অনেক কর্মী এখনও অস্থায়ী বা দৈনিকভিত্তিতে কাজ করছেন। আউটসোর্সিং পদ্ধতির কারণে চাকরির অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং তারা বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব কর্মীকে দ্রুত স্থায়ী করার পাশাপাশি তাদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা জানান, এসব দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু একটি জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়নই হবে না, বরং দেশের নাগরিক সেবা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে। তারা এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
মানববন্ধন থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো, হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা; পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে জাত হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ; দীর্ঘদিন কর্মরত অস্থায়ী ও দৈনিকভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ী করা; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায় বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ; কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা; সামাজিক বৈষম্য দূর করে সংবিধান প্রদত্ত সমঅধিকার বাস্তবায়ন এবং শিক্ষিত হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি চাকরিতে ১ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ।
এএইচ/এফএ




