শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

‘টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের পরিসংখ্যানের মিল নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

টিআইবি প্রতিবেদনের সঙ্গে ‎আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মেলে না: ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের পরিসংখ্যানের মিল নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

‎বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে শাহবাগ থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের পরিসংখ্যানের মিল নেই। আমি যোগদানের পর দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই দুই মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখেছি, টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে আমাদের বাস্তব তথ্য ও পরিসংখ্যানের মিল নেই।

‎তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে অনেক অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিএমপির সব ইউনিট আন্তরিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে। কোথাও আইনশৃঙ্খলা অবনতির তথ্য পেলে গণমাধ্যম আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসি সদস্যদের ২৪ ঘণ্টা মাঠে রাখা হয়েছে। ডিউটির বাইরে সম্ভাব্য ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোতেও বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত দুই মাসে অসংখ্য ছিনতাইকারী গ্রেফতার হয়েছে, ছুরি-চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে রাজধানীতে ছিনতাই অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমাদের লক্ষ্য এটিকে শূন্যের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

তিনি আরও বলেন, ‎শাহবাগ থানাটি অনেক পুরোনো। এই থানার জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তক্রমে ৩৩ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে ইতোমধ্যে সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করছি, নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হলে ফোর্স ও কর্মকর্তাদের আবাসনসংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। আপাতত সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই সদস্যদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ডিএমপির নিজস্ব কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। এজন্য সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ডাম্পিংয়ের জায়গা পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে যেসব ডাম্পিং সুবিধা রয়েছে, সেগুলো ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে। এখানে থাকা অনেক গাড়িই আদালতের আলামত এবং কিছু ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এগুলো পাহারা দিয়ে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব, যাতে কোনো যন্ত্রাংশ চুরি বা ক্ষতি না হয়। আদালতের আলামতসহ অন্যান্য জব্দ যানবাহন আইন ও বিধি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

‎‎প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ফিটনেসবিহীন যানবাহন জব্দের বিষয়ে কমিশনার বলেন, এজন্য বিআরটিএর একটি আলাদা ডাম্পিং স্টেশন রয়েছে। আমরা যেসব ফিটনেসবিহীন গাড়ি জব্দ করছি, সেগুলো সেখানে পাঠানো হচ্ছে। স্ক্র্যাপ নীতিমালা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি কার্যকর হলে ডাম্পিংয়ে থাকা ফিটনেসবিহীন যানবাহন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই টেন্ডারের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ হিসেবে অপসারণ করা সম্ভব হবে।

DMP2
‎‎এ সময় তিনি আরও বলেন, কনস্টেবলসহ থানায় কর্মরত সদস্যদের কল্যাণের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি, ডেমরা পুলিশ লাইন্সে এক কনস্টেবল আত্মহত্যা করেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, পারিবারিক সমস্যার কারণেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমরা সদস্যদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক যেকোনো সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে উৎসাহিত করছি। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের কাউন্সেলরদের মাধ্যমে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছেও পাঠানো হবে।

‎শাহবাগ থানা পরিদর্শনের সময়ে যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন, রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলামসহ রমনা বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‎একেএস/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর