সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

এমপি গাজী বহিষ্কার: জামায়াতের চিঠি আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

এমপি গাজী বহিষ্কার: জামায়াতের চিঠি আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই ইসির
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। ছবি: সংগৃহীত

নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করেছে দলটি। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দেওয়ার কথাও জানিয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী, জামায়াত চিঠি দিলেও তা সরাসরি আমলে নেওয়ার সুযোগ নির্বাচন কমিশনের নেই।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার এক কর্মকর্তা জানান, কোনো সংসদ সদস্যের পদ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য যে দলের, সেই দলের প্রধানকে স্পিকারের কাছে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিষয়টি উত্থাপন করতে হয়। এরপর স্পিকার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বলবেন। তারপর কমিশন আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। সে ক্ষেত্রে জামায়াত সরাসরি কমিশনকে চিঠি দিলেও তা আমলে নিতে পারবে না কমিশন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার (২২ জুলাই) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জামায়াতের চিঠি আসার পর আইন-বিধি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবিধানে যা বলা হয়েছে

সংসদ সদস্যদের পদত্যাগ বিষয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে। তবে দল কাউকে বহিষ্কার করলে কী হবে, সে বিষয়ে সংবিধানে কোনো উল্লেখ নেই।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রেরণ করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

সংসদ সদস্য (বিরোধ নিষ্পত্তি) আইন, ১৯৮০-তে যা বলা হয়েছে

আইনটির ৬৬(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে বিরোধ প্রেরণের বিধান রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, কোনো বিরোধ সৃষ্টি হলে স্পিকার বিরোধ সৃষ্টির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বিরোধ-সংক্রান্ত তথ্যসম্বলিত একটি বিবৃতি প্রস্তুত করবেন। ওই বিবৃতিতে বিরোধ-সংক্রান্ত তথ্য, যে সংসদ সদস্যকে বা যার আসনকে কেন্দ্র করে বিরোধের উদ্ভব হয়েছে তাঁর নাম ও ঠিকানা এবং যিনি বিরোধ উত্থাপন করেছেন তাঁর নাম ও ঠিকানা উল্লেখ থাকবে। পরবর্তী সময়ে এ দুই পক্ষকে বিরোধের পক্ষ হিসেবে গণ্য করা হবে। এরপর স্পিকার ওই বিবৃতি শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাবেন।

আইনে আরও বলা হয়েছে, স্পিকারের মাধ্যমে কোনো বিরোধ নির্বাচন কমিশনের কাছে এলে কমিশন যদি মনে না করে যে বিরোধ-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে স্পিকারের কাছে পুনরায় মতামত বা সিদ্ধান্ত চাওয়া প্রয়োজন, তবে ধারা ৩-এ উল্লিখিত বিবৃতি পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে তা বিরোধের পক্ষগুলোর কাছে পাঠাবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিরোধ-সংক্রান্ত লিখিত বক্তব্য দাখিলের নির্দেশ দেবে।

লিখিত বক্তব্য দাখিলের সময় শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে শুনানি গ্রহণ করবে। বিরোধের সব পক্ষ কমিশনের সামনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়ার অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার পাবেন। কমিশন উভয় পক্ষকে প্রমাণ উপস্থাপন এবং সাক্ষীদের জেরা করার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দেবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ওপরের বিধানগুলোর বাইরে সংশ্লিষ্ট মামলার পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন যে পদ্ধতিকে উপযুক্ত মনে করবে, সেই পদ্ধতিতেই শুনানি পরিচালিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা

আইন অনুযায়ী, কোনো বিরোধের শুনানি ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে—

ক) যে কোনো ব্যক্তিকে সমন জারি করে হাজির হতে বাধ্য করা এবং শপথের মাধ্যমে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা।

(খ) কোনো দলিল বা নথি উদ্ঘাটন ও দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা।

(গ) হলফনামার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ করা।

(ঘ) সাক্ষী বা দলিল পরীক্ষা করার জন্য কমিশন জারি করা।

(ঙ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করা।

আইনে আরও বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে নির্বাচন কমিশনের সামনে পরিচালিত যেকোনো কার্যধারা দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৯৩ ধারার অর্থে বিচারিক কার্যধারা হিসেবে গণ্য হবে।

সংসদ সদস্য (বিরোধ নিষ্পত্তি) আইন, ১৯৮০-এর ধারা ৬ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ধারা ৩-এ উল্লিখিত বিবৃতি পাওয়ার তারিখ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে বিরোধের বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত স্পিকারের কাছে পাঠাবে।

বুধবার (২২ জুলাই) নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে তাঁর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হবে বলেও জানিয়েছে দলটি।

গাজী নজরুলের ভিডিওগুলো সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে প্রথম দিকে ফেসবুকে তাঁর সমর্থকেরা দাবি করেন, এগুলো এআই ব্যবহার করে তৈরি। পরদিন কয়েকটি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান জানায়, ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি নয়। এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তিনি সম্প্রতি তাঁকে বিয়ে করেছেন।

এমএইচএইচ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর