বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ক্রেডিট কার্ড হ্যাকড করে যেভাবে প্রতারণা করতো চক্রটি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২২, ০৩:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ক্রেডিট কার্ড হ্যাকড করে যেভাবে প্রতারণা করতো চক্রটি

খোকন ব্যাপারী ওরফে জুনায়েদ। ৩০ বছর বয়সী এই যুবকের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার খাত্রা গ্রামে। মানুষের কাছে ব্যাপারী বলে পরিচিত হলেও আদতে তার পেশা প্রতারণা। আর তার কাজের সঙ্গী হিসেবে থাকতেন আরও তিন থেকে চারজন। তাদের প্রতারণার টার্গেট ক্রেডিট কার্ডধারীরা। বিকাশ, রকেট ও নগদ আইডিধারীদের ফোন করে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পরিচয় দিত তারা। এরপর ছয় ধাপে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে তা দিয়ে ক্রেডিট কার্ড হ্যাকড করতো। পরে টাকা তুলে খোকন অধিকাংশ টাকা নিয়ে বাকিদের কিছু টাকা দিত। চক্রটি এভাবে পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

সম্প্রতি একজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ খোকন ব্যাপারীর প্রতারণার এমন তথ্য পায়। এরপর আর শেষ রক্ষা হয়নি চক্রটির দলনেতার। রোববার (৩১ জুলাই) রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার খোকন ভাঙ্গা উপজেলার ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।


বিজ্ঞাপন


খোকনের সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর। তিনি জানান, চক্রটি ছয়টি ধাপে একজন ব্যক্তির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিতো। এজন্য চক্রটির সদস্যরা বিকাশ/নগদ/রকেটের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার কাজটি করতো। প্রথম ধাপে প্রতারকরা বিকাশ কর্মকর্তা হিসেবে ভিকটিমকে ফোন দিয়ে অ্যাকাউন্ট’ আপডেট করার জন্য বলে। অ্যাকাউন্টটি আপডেট না করলে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানানো হয়।

দ্বিতীয় ধাপে প্রতারক ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত বিকাশ একাউন্টটিতে ভুল পাসওয়ার্ড তিনবারের অধিক দিলে ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘সাসপেন্ড’ হয়ে যায়।  তৃতীয় ধাপে, প্রতারক ভুক্তভোগীকে জানায় তার অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং একাউন্টে থাকা টাকা ব্লক হয়ে গিয়েছে। এই ব্লককৃত টাকা ভিসা ও মাস্টারকার্ডে ট্রান্সফার করা সম্ভব।

imrul-4

চতুর্থ ধাপে প্রতারক ভুক্তভোগীর ভিসা বা মাস্টার কার্ড এবং কার্ড নাম্বার ও সিসিএন জানতে চায়। পঞ্চম ধাপে ভুক্তভোগী সেই তথ্য সরবরাহ করলে ভিসা বা মাস্টার কার্ড গ্রহণের সময় ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে যে মোবাইল নম্বর সরবরাহ করে সেই মোবাইল নম্বরে একটা ওটিপি কোড সম্বলিত একটি ম্যাসেজ যায়। ষষ্ঠ ধাপে ভুক্তভোগী ম্যাসেজটি রিসিভ করার পর সেই কোডটি প্রতারক জানতে চায়। কোডটি প্রতারক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে পাওয়ার পর তার ভিসা বা মাস্টার কার্ড থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ ক্রেডিট প্রতারক তার নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পরপরই তারা তাদের ব্যবহৃত সব পরিচয় গোপন করে রাখে।


বিজ্ঞাপন


মুক্তা ধর জানান, প্রতারক খোকন মূলত ‘ওইটস খোকন ব্রো’ এবং ‘ওইটস খোকন ব্রো টু’ নামে দুটি ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে রিকোয়েস্ট পাঠাতো। এরপর তালিকায় স্থান পেলে সেই ব্যক্তির অর্থনৈতিক অবস্থা জেনে তথ্য সংগ্রহ করতো। পরে ছয় ধাপে তথ্য নিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতো চক্রের সদস্যরা।

এমআইকে/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর