শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তারা এখন কে কোথায়?

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তারা এখন কে কোথায়?
  • মামুন, মশিউরসহ অনেকে কারাগারে
  • পলাতক প্রায় ৫৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
  • রায় হওয়ার পর থেকে আত্মগোপনে সাবেক কমিশনার হাবিব
  • হারুন আমেরিকায়, বিপ্লব ভারতে, মনিরুল দুবাইয়ে

এক সময় পুলিশ বাহিনীর সবচেয়ে প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন তারা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ‘রাজনৈতিক কর্মীদের দমনেও’ তাদের নাম বারবার এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাল্টে যায় সেই চিত্র। সরকার পরিবর্তনের পরই পরিবর্তন হয় পুলিশ বাহিনীর আলোচিত অনেক কর্মকর্তার ভাগ্যও। তাদের কেউ কারাগারে আছেন, কেউ চাকরিচ্যুত বা বাধ্যতামূলক অবসরে গেছেন, আবার অনেকে দেশ ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য মতে, পট পরিবর্তনের পর ৫৭ জন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আর কর্মস্থলে ফেরেননি। এক সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় প্রভাব বিস্তারকারী এসব কর্মকর্তার অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, দমন-পীড়ন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে বলপ্রয়োগ ও নির্বিচার গুলি করার মতো অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তত ৫৭ জন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। কেউ স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন, কেউ দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় বিভাগীয় ব্যবস্থার মুখে পড়েছেন। অনেকের গ্রামের স্থায়ী ঠিকানায় বারবার নোটিশ পাঠানো হলেও দু-একজন ছাড়া কেউ কর্মস্থলে যোগ দেননি। তাদের মধ্যে সিআইডির সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোল্লা নজরুল ইসলামকে সম্প্রতি বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

এখনো হদিস মেলেনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক অতিরিক্ত আইজি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম কমিশনার মেহেদী হাসান, এসপি খন্দকার নুরুন্নবী, এসপি সঞ্জিত কুমার রায়, এসপি প্রলয় জোয়াদ্দার, ডিসি নাজমুল ইসলাম, সাবেক ওসি মশিউর রহমান এবং বনানীর সাবেক ওসি ফরমান আলীর। শুধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই নন, নিচের স্তরের অনেক পুলিশ সদস্যও প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কর্মস্থলে ফেরেননি।

কে কোথায় আছেন

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা গোপনে দেশ ছেড়ে যান। তাদের অধিকাংশ বর্তমানে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নরওয়ে, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ আবার নেপাল হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

ডিবির হারুন এখন আমেরিকায়

জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে তুলে নেওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দেন ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ। এছাড়া জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনাতেও তার মদদের অভিযোগ রয়েছে।

চব্বিশের ৫ আগস্ট পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে কিছুদিন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করেন। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তাও তাকে সহায়তা করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

হারুনের স্ত্রী আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় দেশটিতে প্রবেশ করা তার জন্য সহজ ছিল। দেশ থেকে পালানোর পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তবে প্রকাশ্যে খুব একটা আসেন না। মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সড়কে তোলা তার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভিডিওতেও তাকে দেখা যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার অর্জিত পদকও বাতিল করা হয়েছে।

বিপ্লব কুমার সরকার এখন ভারতে

ডিবির হারুনের পর সবচেয়ে আলোচিত কর্মকর্তা ছিলেন পুলিশের সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।

২০১১ সালে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুককে মারধরের ঘটনায় হারুন ও বিপ্লব আলোচনায় আসেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে দুজনেরই ধারাবাহিকভাবে পদোন্নতি হতে থাকে।

বিপ্লব সর্বশেষ রংপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে ঢাকায় এসে যুগ্ম কমিশনার পদে পদোন্নতি পান। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় তিনিও আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে আছেন। ইতোমধ্যে তাকে পুলিশ বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাবেক এসবির প্রধান মনিরুলও পলাতক

শেখ হাসিনা সরকারের সময় বিরোধী মতের লোকজনকে বাসাবাড়ি, মেস, মাদরাসা ও মসজিদ থেকে আটক করে মাসের পর মাস গোপনে আটকে রাখাসহ নানা অভিযোগ আছে পুলিশের বিশেষ শাখার-এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পরে তাদের বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দ্রুত পদোন্নতি পান মনিরুল।

গত ১৭ বছরে কথিত জঙ্গি নাটকের অন্যতম রূপকার হিসেবে মনিরুলের নাম আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনার কাছ থেকে তিনি ৫০ লাখ টাকা পেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের পর তাকেও পালিয়ে যেতে হয়।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি প্রথমে ভারতে যান। পরে নেপাল হয়ে বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।

লাপাত্তা সেই মেহেদী

ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার মেহেদী হাসানও হারুন ও বিপ্লবের মতোই বেপরোয়া ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী মতের লোকজনকে ধরে এনে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জুলাই আন্দোলন দমনে সরাসরি ভূমিকা রাখা পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মেহেদী। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নেই ডিবির সাবেক কর্মকর্তা খন্দকার নুরুন্নবীর

এসপি খন্দকার নুরুন্নবী ডিবিতে দায়িত্ব পালনকালে আলোচনায় আসেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিরপরাধ মানুষকে ধরে এনে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হিসেবে উপস্থাপন করতেন। তিনি এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনিও পলাতক রয়েছেন।

এ ছাড়া এসপি সঞ্জিত কুমার রায়, এসপি প্রলয় জোয়াদ্দার, এডিসি নাজমুল ইসলাম এবং বনানী থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলীসহ অন্তত ৫৭ জন কর্মকর্তার খোঁজ মিলছে না।

সূত্র বলছে, তাদের অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশে অবস্থান করছেন। ৫ আগস্ট প্রাণ বাঁচাতে তারা প্রথমে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান।

শুধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই নন, নিচের পর্যায়ের অনেক কনস্টেবলও কর্মস্থল থেকে উধাও হয়ে গেছেন। প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের কেউ আর চাকরিতে ফেরেননি। গত এক যুগে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত থেকে যারা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন এবং খুন, গুম ও ক্রসফায়ারের মতো অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন, তাদের অনেকেই এখন পলাতক।

8

ডিসি মশিউর ও এডিসি জুয়েল কারাগারে

গত ১০ বছরে ঢাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আটক করার অভিযোগ রয়েছে ডিবির সাবেক ডিসি মশিউর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ধরে এনে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রাখা হতো। এমনকি তাদের পরিবারের সদস্যদেরও হয়রানি করা হতো।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মশিউর রহমানকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। তবে জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

জানা গেছে, এই পুলিশ কর্মকর্তার শ্বশুর রাজধানীর পল্লবী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন। মশিউরও ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিরপরাধ মানুষকে রাস্তা থেকে ধরে এনে গ্রেফতার দেখাতেন, মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতেন এবং সাংবাদিকদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন।

তার সহযোগী এডিসি জুয়েল রানাও বর্তমানে কারাগারে আছেন। ক্যাসিনোকাণ্ডে অভিযুক্তদের অন্যতম ছিলেন তিনি। তবে সে সময় শেখ হাসিনা সরকার তাকে শাস্তি না দিয়ে উল্টো পদোন্নতি দেয়। ক্যাসিনোকাণ্ডের সময় তিনি মতিঝিল বিভাগের এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে জুয়েল রানা ও মশিউর রহমান-দুজনকেই বাংলাদেশ পুলিশ থেকে বরখাস্ত করা হয়।

7

সাবেক আইজিপি আল-মামুন ও অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল বাহার কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

জুলাইয়ের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালতে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী (রাজসাক্ষী) হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তার সাজা কমিয়ে দেয়। অপরাধের ভয়াবহতার কারণে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও বিচারকার্যে সহযোগিতা ও সত্য প্রকাশ করায় তাকে লঘু দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (অনেকে ডিআইজি হিসেবে উল্লেখ করেন) ইকবাল বাহারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ড এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইমন গাজী নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল বাহারসহ তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পুলিশের আবেদনের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক তাদের গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। এর আগেই জুলাই গণহত্যার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় শাহিনুর বেগম নামে এক নারী হকারকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইকবাল বাহারকে ২৬ নম্বর আসামি করা হয়। ওই মামলায় ২০২৫ সালের ২১ জুন থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার এবং বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।

dmp-1

ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিব আত্মগোপনে

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত গণহত্যার মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি এ রায় ঘোষণা করা হয়। মামলায় হাবিবুর রহমানসহ মোট চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তৎকালীন সরকারের নির্দেশনায় ঢাকায় পরিচালিত গণহত্যা ও দমন-পীড়ন বাস্তবায়নে হাবিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

রায় ঘোষণার সময় হাবিবুর রহমানসহ দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামিরা পলাতক ছিলেন।

পলাতক সেই ওয়ারীর ডিসি ইকবাল

জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দেওয়া একটি বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গুলি করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিগুলো যায় না। এটাই সবচেয়ে বড় আতঙ্কের ও দুশ্চিন্তার বিষয়।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম আসামি তিনি। দীর্ঘদিন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

কারাগারে আছেন যারা

জুলাই আন্দোলন ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের সাবেক আইজিপিসহ অনেক কর্মকর্তা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন—ডিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লা, ডিবির সাবেক ডিসি মশিউর রহমান, পুলিশ সুপার (এসপি) তানভীর সালেহীন, মহিউদ্দিন ফারুকী, আবদুল মান্নান, এস এম তানভীর আরাফাত, আসাদুজ্জামান, মো. আবদুল্লাহিল কাফী, এডিসি জুয়েল রানা এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম, খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাদেক কাওছার দস্তগীর, বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন, ডিএমপির মিরপুর বিভাগের দারুস সালাম অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এম এম মইনুল ইসলাম, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার ইফতেখার মাহমুদ ও মো. তানজিল আহমেদ, ডিএমপির বাড্ডা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার রাজন কুমার সাহা, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামসহ আরও অনেকে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

সিটিটিসি প্রধান আসাদ পলাতক

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাবেক প্রধান ও ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। এছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অভিযান পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি হত্যা মামলা রয়েছে। তবে এখনো তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

এমআইকে/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর