রোববার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

তামাক আইন পাস হলেও উদ্বেগ কাটেনি, কঠোর আইন চান বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

তামাক আইন পাস হলেও উদ্বেগ কাটেনি, কঠোর আইন চান বিশেষজ্ঞরা
‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ, প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভা

তামাক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংশোধিত আইন পাস হলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ কাটেনি। তাদের মতে, ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচসহ উদীয়মান তামাকজাত পণ্য এখনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় শিশু, কিশোর ও তরুণদের নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়ছে। 

তাই নতুন আইনের কঠোর বাস্তবায়নের পাশাপাশি এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রি ও প্রচার নিষিদ্ধে পৃথক ও কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ, প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এ আহ্বান জানান। 

টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা) এবং তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা ও বিলকিস ইসলাম। 

বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের হেলথ সেক্টরের পরিচালক ও বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের আহ্বায়ক ইকবাল মাসুদ, নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের দফতর সম্পাদক এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের হেড অব প্রোগ্রামস সৈয়দা অনন্যা রহমান এবং জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ তাইফুর রহমান।

সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধনী) আইন, ২০২৬’-এর কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত নীতিগত ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’-এর সংশোধিত সংস্করণ তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এর সুফল নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। এজন্য মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

34098889-1b13-4039-82aa-86f78cd66da3

বক্তারা বলেন, সংশোধিত আইনে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচসহ উদীয়মান তামাকজাত পণ্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব চূড়ান্ত আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে এসব পণ্য কার্যত নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যা শিশু, কিশোর ও তরুণদের নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষায় এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর আইন প্রণয়নের দাবি জানান তারা।

আলোচনায় আরও বলা হয়, তামাক ও নিকোটিন কোম্পানিগুলো নতুন মোড়ক, আধুনিক উপস্থাপন ও আগ্রাসী বিপণন কৌশলের মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এসব পণ্যকে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর বা আধুনিক হিসেবে প্রচার করা হলেও এ ধরনের দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং এগুলো তরুণদের নিকোটিন নির্ভরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে প্রচলিত তামাকপণ্য ব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

সভায় তামাক নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে তামাক কোম্পানির প্রভাব ও কৌশল কঠোরভাবে মোকাবিলা, খুচরা শলাকা বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ বিক্রি ও লাইসেন্স ছাড়া তামাকপণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রফতানি, পরিবহন, বিক্রি, বিতরণ, মজুদ ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করতে পৃথক আইন প্রণয়ন, তামাক চাষ ও তামাক করনীতি প্রণয়ন এবং সংশোধিত আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন।

এএইচ/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর