সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সংসদে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

সংসদে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এই দিবস উদযাপন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, গণতন্ত্র, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা করেছেন বিশ্বখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান। 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক স্থাপত্য নির্মাণে অনন্য অবদান রেখেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খান। এই পারস্পরিক অবদান প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে মার্কিন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের আয়োজন করা ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ দুই দেশের মানবিক সম্পর্কের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বর্তমান আয়োজনও সেই মানবিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনেরই ধারাবাহিকতা বহন করছে, যা কেবল কূটনীতি বা বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

2

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের বিদ্যমান অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে।

বিরোধী দলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা দুই দেশের গভীর অংশীদারিত্বের প্রমাণ। 

তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন লক্ষ্যকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গণতন্ত্র ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের আয়োজন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা ঘোষণা করেছিলেন, ‘সকল মানুষ সমান’। স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে টেকসই নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে।

টিএই/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর