রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ৫৪ শতাংশ বাঙালিসহ সকল সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীর জন্য এক নীতিতে কর আরোপ বা মওকুফ করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ( ক্র্যাব) অডিটোরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আদিবাসীরা কখনোই জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে মন থেকে সমর্থন করেনি। তারা সর্বদা তাদের সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস ইউপিডিএফ বা কেএনএফ-এর নির্দেশিত পথে চলেছে। চুক্তির পর তারা আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করেছে আবার নিজেদের স্বার্থে জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে ‘না ভোট’ দেওয়ার ইতিহাসও তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে রাঙামাটিতে জেএসএস কোণঠাসা হয়ে পড়ায় তারা কৌশলে দীপেন দেওয়ানকে তথা বিএনপিকে সমর্থন দেয়। এটি ছিল তাদের সাময়িক কৌশল, কোনো আদর্শিক ভোট ব্যাংক নয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও একজন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যসহ মোট ৪ জন সংসদ সদস্যদের এই প্রস্তাব; শুধুমাত্র আদিবাসীদের জন্য কর মওকুফের বিষয়টি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর মাধ্যমে আদিবাসীরা শুধু ব্যক্তি পর্যায়েই নয়, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও কর ফাঁকি দেওয়ার আইনি বৈধতা চাইছে। যদি তাদের এই দাবি মেনে নিয়ে ফার্ম বা কোম্পানিকে করমুক্ত ঘোষণা করা হয়, তবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বড় বড় ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট গড়ে উঠবে, যা দেশের মূল অর্থনৈতিক রাজস্ব নীতিকে পঙ্গু করে দেবে। এটি পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালি ব্যবসায়ীদের চিরতরে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করার একটি সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক নীলনকশা।
এসময় তিনি কিছু দাবি দাওয়া তুলে ধরে বলেন, রাষ্ট্রের উচিত কোনো প্রকার রাজনৈতিক হুমকিতে মাথা নত না করে পার্বত্য চট্টগ্রামের এই বৈষম্যমূলক কর ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রস্তাবিত সংশোধনী কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা। সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি আনা সম্ভব। সুতরাং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ৫৪ শতাংশ বাঙালিসহ সকল সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীর জন্য এক নীতিতে কর আরোপ বা মওকুফ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। সেই ক্ষেত্রে যেহেতু এখন আর কেউ পিছিয়ে পড়া নেই, সকলকে করের আওতায় আনলে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। যে অঞ্চলে কর মওকুফ থাকে সেই অঞ্চলকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। কারণ করহীন জনগোষ্ঠী অনেকটা ভিখারির পর্যায় চলে যায়। তাই সবাইকে করের আওতায় আনার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সদস ও লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, সভাপতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ রাজু, দফতর সম্পাদক শাহজালাল, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন কায়েশ, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মাহমুদ প্রমুখ।
এমআইকে/এফএ




