ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টা ২৯ মিনিট ২০ সেকেন্ডে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের প্রভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবাসিক এলাকার একটি পুরোনো ভবনের ছাদের অংশ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটে।
পলাশী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়্যারহাউস কর্মকর্তা অপু কুমার মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভূমিকম্পের কারণে ভবনের ছাদের কার্নিশের একটি অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। ঘটনার পরপরই এলাকাটি ঘিরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ভবনটি আবাসিক হওয়ায় সেখানে বসবাসকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভবনের আশপাশে জনসাধারণের চলাচল সীমিত রাখতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভবনটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কোনো গুরুতর আহত ব্যক্তিকে পায়নি। তবে ওপর থেকে ধ্বংসাবশেষ পড়ে কেউ সামান্য আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার গভীরে, যা তুলনামূলকভাবে অগভীর ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে ভূমিকম্পের পর বুয়েটের আবাসিক এলাকার ৩৯-৪০ নম্বর পুরোনো ভবনের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং এতে একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে আহত ব্যক্তির পরিচয় ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
ঘটনার পর বুয়েটের প্রো-ভিসি ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও খ্যাতিমান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ড. খান মুহাম্মদ আমানত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ভবনের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি ভবনটির নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এম/এমআই




