দীর্ঘদিন ধরে সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা ব্যাহত হওয়ায় গণমাধ্যম জনগণের আস্থা হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর দেশের গণমাধ্যমে যথাযথভাবে প্রকাশিত হয়নি। ফলে জনগণকে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে পিআইবি সম্মেলন কক্ষে পিআইবির আয়োজনে পিআরএফ সদস্যদের জন্য ‘এআই, ফ্যাক্ট-চেকিং ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের গণি এসব বলেন।
কাদের গণি বলেন, ‘সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্য। সত্যের অনুসন্ধান থেকে বিচ্যুত হওয়ায় গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। সংবাদমাধ্যমের পরাজয় মানে রাষ্ট্রের পরাজয়। তাই গণমাধ্যমকে শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে হবে।’
এই সাংবাদিক নেতা বলেন, অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা ও স্বার্থান্বেষী প্রচারণা সাংবাদিকতার মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একটি জরিপের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় যে পেশা মানুষের কাছে সম্মানজনক ছিল, সেখানে এখন সাংবাদিকতা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা পরিবর্তনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের প্রসঙ্গ তুলে কাদের গনি বলেন, প্রযুক্তি যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
কাদের গনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সত্যনিষ্ঠ ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণমাধ্যমকে আবারও জনগণের আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে।'
দুদিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পলিটক্যাল রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি খোন্দকার কাওছার হোসেন। সমন্বয়ক ছিলেন পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুণ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন পিআরএফের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন হোসেন।
রিসোর্স পার্সন হিসেবে ছিলেন আরিফুল ইসলাম আরমান, ড. জামিল খান ও আবু সুফিয়ান।
ক.ম/




