শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ঢাকা

৫০ সালের মধ্যে দেশে আড়াই কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

Y

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক জোয়ারের প্লাবন, লবণাক্ততা এবং নদী ভাঙ্গনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়ার হার ক্রমেই বাড়ছে। ফলে দেশে এখন প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীন বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১.৬ থেকে ২.৬ কোটি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিবাসন এবং অভিবাসীদের জন্য সঠিক নীতিমালা এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা বিষয়ক’ শীর্ষক এক সভায় আরএমএমআরইউ (রামরু) ও এসসিএমআরসহ বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার তথ্য তুলে ধরে এমন আশঙ্কা করা হয়।


বিজ্ঞাপন


সভায় আরও জানানো হয়, জলাবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তচ্যুত হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি খুলনা ও চট্টগ্রামের মতো শহরেও আশ্রয় নিচ্ছে। জার্মানির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (জিআইজেড) গবেষণা অনুযায়ী, শহরে আশ্রয় নেওয়া জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিবাসীদের মধ্যে ৫৭ শতাংশই উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো শহরে আশ্রয় নিয়েও নানা ধরনের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। যেমন- অনিরাপদ আবাসন, পানি-স্বাস্থ্য-শিক্ষা সেবার অভাব এবং সামাজিক বঞ্চনা। ফলে সার্বিক সংকট বাড়ছে।

কারিতাস বাংলাদেশের (সিডিআই) আয়োজিত এই সভার শুরুতে সংস্থাটির পরিচালক থিউফিল নকরেক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীসহ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত, বিপদাপন্ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি নিরসন, অভিযোজন ও জীবনমান উন্নয়নমূলক সংক্রান্ত গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন।

সভায় সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুতদের নিয়ে সংকট দিন দিন আরো বাড়ছে। সংকটি এখন বহুমুখী। অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়। ফলে এর সমাধানে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করা যেতে পারে।


বিজ্ঞাপন


সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম আজাদ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুতদের ‘ক্লাইমেট যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়মিত ও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরার ক্ষেত্র তৈরির জন্য সাংবাদিকদের নিয়ে পৃথক একটি নেটওয়ার্ক বা ফোরাম তৈরি করার প্রস্তাব দেন।

সভায় কারিতাস বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার ত্রিপুরা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. জামিল আহমেদ, সাংবাদিক শাহীন হাসনাত প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এএম/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর