পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় (ই-জিপি) ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সব অংশীজন সহজে নিবন্ধন করতে পারেন এবং কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ছাড়াই সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন। তিনি বলেন, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করতে ই-জিপি প্ল্যাটফর্মকে আরও ব্যবহারবান্ধব করা জরুরি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন প্রাঙ্গণে অবস্থিত বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিপিপিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব বলেন।
বিজ্ঞাপন
বিপিপিএর ১০ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিমন্ত্রী সভায় বিপিপিএর কার্যক্রম, দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন। এ সময় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী এবং বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার সংস্কারের পটভূমি, সরকারি ক্রয়ের ডিজিটাল রূপান্তর, বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা, ই-জিপি ব্যবস্থার কার্যক্রম ও অগ্রগতি, বিপিপিএর সাংগঠনিক কাঠামো, অর্জন, টেকসই সরকারি ক্রয়, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও সেবাগ্রহীতা ও অংশীজনদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করতে হবে। ই-জিপি ব্যবস্থায় নিবন্ধন ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো অপ্রয়োজনীয় জটিলতা থাকা উচিত নয়।
মো. জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিমন্ত্রী বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, সাংগঠনিক কাঠামো এবং ই-জিপি ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশীজনদের মতামত জানার জন্য পরামর্শমূলক সভা আয়োজনের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সভা বিপিপিএর জনবল ও সক্ষমতা উন্নয়ন, ই-জিপি প্ল্যাটফর্মের আরও সহজীকরণ এবং এর কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে সহায়ক হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় দরপত্রদাতাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। এজন্য বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ই-জিপি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, শিগগিরই একটি অংশীজন পরামর্শ সভার আয়োজন করা হবে। এসব সভা থেকে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে বিপিপিএ এবং ই-জিপি ব্যবস্থার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে সরকারি ক্রয় আইন এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাবও সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
সভায় বক্তারা সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং অংশীজনদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এএইচ/ক.ম




