বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ঢাকা

বন্ধ ৬ চিনিকল চালুর দাবি, না মানলে ‘মার্চ টু পিএমও’র হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

বন্ধ ৬ চিনিকল চালুর দাবি, না মানলে ‘মার্চ টু পিএমও’র হুঁশিয়ারি
জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটি

রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ ছয়টি চিনিকল আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় চালুর সরকারি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। 


বিজ্ঞাপন


এসময় এক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন।

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন লিখিত বক্তব্যে বলেন, সরকার ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। 

একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের জমি ও সম্পদ কোনোভাবেই ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর করা যাবে না। আগামী এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে ‘মার্চ টু পিএমও’ কর্মসূচি পালন করা হবে এবং স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর দাবিতে সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। ওই টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে শিল্প মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর তিন ধাপে ছয়টি চিনিকলের মাড়াই কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।


বিজ্ঞাপন


পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে শ্যামপুর ও সেতাবগঞ্জ চিনিকল, দ্বিতীয় ধাপে পঞ্চগড় ও পাবনা চিনিকল এবং তৃতীয় ধাপে কুষ্টিয়া ও রংপুর চিনিকল চালুর কথা ছিল। তবে প্রথম ধাপের দুই চিনিকল চালুর লক্ষ্যে একাধিক সভা, প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এবং কারিগরি প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হলেও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

নেতাদের দাবি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তির কারণে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় না হওয়ায় ২০২০ সালে জারি করা মাড়াই কার্যক্রম স্থগিতাদেশ কার্যত বহাল রয়েছে। ফলে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন সরকার দেশি-বিদেশি চক্র এবং আমদানিনির্ভর ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল বন্ধ করে দেয়। এর ফলে দেশের চিনি শিল্প মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং হাজারো শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েন। বর্তমান পরিস্থিতিও চিনি আমদানিকারক সিন্ডিকেটের স্বার্থকে শক্তিশালী করছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

তাদের মতে, চিনিকল বন্ধ থাকার কারণে উত্তরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক আখচাষি, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবিকা সংকটের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় শিল্পায়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

চিনিকলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে বেশ কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করা, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, কারখানাগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন, আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, আখচাষিদের কৃষিঋণ প্রদান, উচ্চফলনশীল জাতের আখ চাষ সম্প্রসারণ এবং চিনির উপজাতভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা।

নেতারা বলেন, নতুন সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। তাই পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ছয়টি চিনিকল পুনরায় চালু করে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

দাবি আদায়ে আগামী ১ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন চিনিকল এলাকায় প্রচার ও জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এরপর ১০ আগস্ট ঢাকায় ‘মার্চ টু পিএমও’ কর্মসূচি পালন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মানস নন্দী, শ্রমিক নেতা জহুরুল ইসলাম, রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান ফিরোজ, সদস্য শামীম ইমাম এবং ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি ফয়জুল হাকিম লালাসহ বিভিন্ন শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এম/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর