গণমাধ্যমকে রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে সাংবাদিকদের প্রতি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকরা জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করেন। তাদের সংবাদ ও বিশ্লেষণ রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ এবং জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মত ও ব্যাখ্যার ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সংবাদ পরিবেশন করলে দেশের অগ্রযাত্রা আরও সমৃদ্ধ হবে।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় সবসময় প্রাসঙ্গিকতা, তথ্যের সমন্বয় এবং বাস্তবতার প্রতিফলন থাকা জরুরি। কোনো বিষয়ে মন্তব্য করার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা থাকলে তা আরও সমৃদ্ধ হয়। অনেক সময় কোনো প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দিতে গিয়ে বক্তব্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হয়, যা জাতীয় স্বার্থের জন্য ইতিবাচক নাও হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যা শুধু তথ্য পরিবেশন করে না, বরং রাষ্ট্রকে পথও দেখায়। সাংবাদিকরা সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরেন, সংশোধনের সুযোগ তৈরি করেন এবং উন্নয়নের গতিকে টেকসই করতে ভূমিকা রাখেন। রাজনীতিবিদ হিসেবে সরকার জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে, আর সাংবাদিকরা সেই কাজের মূল্যায়ন করেন। এ দুই পক্ষের লক্ষ্য একটিই হওয়া উচিত, সেটি হলো দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা।’
বিজ্ঞাপন
শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে। এ পথে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং বাস্তব চ্যালেঞ্জ থাকে। মানুষের প্রত্যাশা দ্রুত পূরণ করতে গিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সরকার উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। যা দেখছি, যা করছি এবং যে বাস্তবতা রয়েছে, সেটিই সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরতে চিই। তবে অনেক সময় কোনো বক্তব্য বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, যা মূল বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাই একইভাবে বিষয়কে মূল্যায়ন করেন না। চিন্তার ভিন্নতার কারণে ব্যাখ্যাও ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু যত বেশি জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সংবাদ ও বিশ্লেষণ করা যাবে, তত বেশি দেশ উপকৃত হবে। রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই যদি একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন, তাহলে দেশের অগ্রগতি আরও বেগবান হবে।’
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয় সরকারের নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় তার মন্ত্রণালয়েরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে যদি কোথাও ব্যবধান থাকে, সেটি দূর করার জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এএইচ/এমআই




