সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ঢাকা

তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

Tareq
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সরকারকে কোনো তোষামোদ নয়, জনগণের সামনে প্রকৃত সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরতে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে সচিবালয়ে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।


বিজ্ঞাপন


গণমাধ্যমের কর্তা ব্যক্তিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় অবস্থান বা সরকারের তোষামোদ নয়, জনগণের সামনে সত্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরতে হবে। সেইসঙ্গে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য গণমাধ্যমকে সহযোগিতা করতে হবে।

প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে দুপুর দেড়টায় শুরু হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। বৈঠকে দেশের টেলিভিশন শিল্পের বর্তমান সংকট, সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ, চাকরির নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসংক্রান্ত ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাংবাদিকরা গণমাধ্যমের নানাবিধ চলমান সংকট, নীতিগত সমস্যা ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে সরাসরি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় নিয়ে মনোযোগ দিয়ে তাদের প্রতিটি সমস্যার কথা শোনেন। গণমাধ্যম যাতে কোনো রকম চাপ বা সংকট ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আরও পড়ুন

স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কমিশন গঠন গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যমন্ত্রী

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, গণমাধ্যমের কাছ থেকে কোনো দলীয় আনুগত্য বা লেজুড়বৃত্তি নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি সত্যিকারের বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

PM2

প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ জুন এ ব্যাপারে অংশীজনদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা হবে। অংশীজনরা সবাই মিলে নীতি কাঠামো করলে বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিরসন সম্ভব হবে।

সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, সমাজ গঠনে গণমাধ্যমের একটা বড় দায়বদ্ধতা রয়েছে। কেবল রাজনৈতিক খবরাখবর বা বিতর্ক নয়, সমাজব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন এবং মানুষের ভেতরের নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে জাগিয়ে তুলতে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে আরও বেশি গঠনমূলক ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন

সংবাদে ব্যক্তিগত মত চাপিয়ে দিলে আস্থার সংকট তৈরি হয়: হারুন জামিল

বৈঠকে অংশ নেওয়া গণমাধ্যমের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অতীতের মতো কোনো দলীয় প্রচারযন্ত্র হিসেবে নয়, বরং গণমাধ্যমকে তার নিজস্ব শক্তিতে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর