সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ঢাকা

পাটখাত যাচ্ছে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়, সংসদে জানালেন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

S
ফাইল ছবি

সরকারিভাবে দেশে আর নতুন কোনো পাটকল স্থাপন করা হবে না। সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে পাটখাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।

সোমবার (১৫ জুন) বিকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। 


বিজ্ঞাপন


সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন, সোনালী আঁশ পাট শিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি, বন্ধ পাটকল চালু এবং নতুন পাটকল স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আছে কি না।

উত্তরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জানান, পাটশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বর্তমানে ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পটি আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। তবে পাট চাষিদের সহায়তায় পরবর্তীতে একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে রাজস্ব বাজেটের আওতায় নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

বন্ধ পাটকলগুলো চালুর বিষয়ে মন্ত্রী সংসদে জানান, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম ২০২০ সালের ১ জুলাই সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এর মধ্য থেকে ২০টি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা ভিত্তিতে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মধ্যে নয়টি মিল বর্তমানে চালু রয়েছে।

অবশিষ্ট মিলগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, বাকি ছয়টি মিল ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মিলের বিপরীতে চূড়ান্ত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে, একটি মিলের বিপরীতে দাখিলকৃত আগ্রহপত্র মূল্যায়ন চলছে, একটি মিলের জন্য নতুন করে আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং অন্য একটি মিলের ইজারা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকার ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে এই মিলগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


ইজারা বহির্ভূত বাকি পাঁচটি মিলের বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় তিনটি মিল এবং আইনি জটিলতা বা মামলাজনিত কারণে দুটি মিলকে লিজের বাইরে রাখা হয়েছিল। 

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নতুন করে কোনো সরকারি পাটকল স্থাপন না করে বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই এই শিল্পের গতি ফেরাতে চায় সরকার।

এমএইচএইচ/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর