সরকারের ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দকৃত সুযোগ-সুবিধা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে দাবি করেছে ১৪টি সংগঠন। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই বরাদ্দ বাড়ানোর লক্ষ্যে চলমান সংসদ অধিবেশনেই বাজেট পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানিয়েছে তারা।
রোববার (১৪ জুন) অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে নিয়োজিত ১৪টি সংস্থার পক্ষ থেকে এক যৌথ সভায় এই বাজেট প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়।
সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা এবং উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি।
বক্তারা নতুন বাজেটে প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা, উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৪ দশমিক ৫ লাখ থেকে ৩৮ লাখে উন্নীত করা, শিক্ষা উপবৃত্তি বৃদ্ধি এবং ১৫টি সহায়ক উপকরণের আমদানি অগ্রিম আয়কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করায় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তবে একইসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিবন্ধী খাতে মোট বরাদ্দ ৪ হাজার ৯৭২.৫৬ কোটি টাকা, যা সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মাত্র ৩.৪৫% এবং মোট জাতীয় বাজেটের মাত্র ০.৫৩%। এছাড়া বাজেট প্রণয়নের পূর্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বা তাদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
১৪টি সংগঠনের প্রধান ১০টি দাবি
যৌথ সভায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় বাজেট পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে প্রধান ১০টি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-
১) ইশতেহার অনুযায়ী কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে ‘ন্যাশনাল সিভিক সার্ভিস’ চালু, বিশেষ তহবিল গঠন এবং জুলাই বিপ্লবে প্রতিবন্ধিতার শিকার ব্যক্তিদের চিকিৎসা, স্থায়ী কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
২) তীব্র মাত্রার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মাসিক ভাতা কমপক্ষে ৫,০০০ টাকা এবং মাঝারি মাত্রার প্রতিবন্ধীদের জন্য দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা।
৩) অতি গুরুতর মাত্রার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সার্বক্ষণিক কেয়ারগিভারের (তত্ত্বাবধায়ক) জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা হারে নতুন ভাতা চালু করা।
৪) দেশের শতভাগ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপবৃত্তির আওতায় আনা এবং উপবৃত্তির পাশাপাশি তাদের প্রতিবন্ধী ভাতাও চালু রাখা।
৫) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম, এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বাজেটে প্রতিবন্ধীদের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা।
৬) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া।
৭) সরকারি উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদা মোতাবেক কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও সহায়ক উপকরণ উৎপাদনের জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা।
৮) ডিজিটাল হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী কৃষক ও নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
৯) স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে কর্মরত সংগঠনগুলোর কর্মসূচীর জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা।
১০) প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট বাজেট রাখা।
সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কেবল কল্যাণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখে, অধিকারের জায়গা থেকে দেখতে হবে। দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
যৌথ প্রতিক্রিয়া জানানো অন্য সংগঠনগুলো হলো—বি-স্ক্যান, উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ডিজঅ্যাবল্ড চাইল্ড ফাউন্ডেশন, ডিজঅ্যাবল্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, সোসাইটি অব দ্যা ডেফ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজার্স, ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ট্রাস্ট, সাতারকুল প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা, প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ, সেন্টার ফর সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিজাবিলিটি, ভিজ্যুয়ালি ইম্পায়ার্ড পিপল'স সোসাইটি, ডিজঅ্যাবল্ড ডিফারেন্ট প্রোগ্রাম এবং ডিজাবিলিটি রাইটস এডভোকেসি ফান্ড।
বিইউ/ক.ম




