দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) চলতি বছরের আগস্টের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
রোববার (১৪ জুন) সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের একটি যুগান্তকারী প্রকল্প এবং দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্থাপনা। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে কমিশনিং ও স্টার্টআপ পর্যায়ে রয়েছে, যা বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, জটিল এবং চূড়ান্ত ধাপ।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ইউনিট-১-এর স্টেজ-বি (ফুয়েল লোডিং ও ফিজিক্যাল স্টার্টআপ) কার্যক্রমের আওতায় গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন, বোরিক অ্যাসিড সংযোজন, রিঅ্যাক্টর ও প্রাইমারি সার্কিট পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই, সাব-ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষা এবং অন্যান্য কমিশনিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী ধাপে রিঅ্যাক্টরকে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বিত পরীক্ষা এবং নিম্নক্ষমতায় রিঅ্যাক্টর পরিচালনার মাধ্যমে স্টার্টআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রথমে ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং পরে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষমতায় পরিচালনা করে বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা ও মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ার প্রায় ১১৪ দিন পর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
বিজ্ঞাপন
প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি অনুযায়ী আশা করছি, ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।
রাশিয়ার সহযোগিতায় পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এফএ




