শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ঢাকা

বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

S
সংবাদ সম্মেলনে মতামত তুলে ধরছেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের সাফল্য এর আকার বা উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার ওপর নয়, বরং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে বলে মনে করে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। 

সংস্থাটি বলছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রস্তাবিত বাজেট নতুন সরকারের জন্য অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।


বিজ্ঞাপন


শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ মতামত তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

অনুষ্ঠানে সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানের অন্য গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, এটি নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এবং এমন এক সময়ে উপস্থাপিত হয়েছে, যখন দেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। গত প্রায় চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়েছে, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ আশানুরূপ নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতও নানা দুর্বলতায় আক্রান্ত।


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও জ্বালানি সংকট এখনো অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এই বাস্তবতায় বাজেটকে মানবিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিপিডির মতে, প্রস্তাবিত বাজেটের মূল দর্শন হলো মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

22

সংস্থাটি মনে করে, বাজেটের এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ক্ষেত্রে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগে উৎসাহ, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে মিল রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি সতর্ক করে বলেছে, অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই সফলতা আসে না। বাস্তবায়নে দুর্বলতা থাকলে বাজেটের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না। তাই বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সিপিডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাজেটের লক্ষ্য পূরণে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যেগুলো দক্ষতার সঙ্গে প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং জনগণের কাছে দৃশ্যমান ফলাফল পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বাজেট নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের সক্ষমতা প্রদর্শনের এটিই সরকারের প্রথম বড় সুযোগ। সরকার যদি বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তাহলে দেশের অর্থনীতি আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে নিট বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এএইচ/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর