বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ০৩:১২ এএম

শেয়ার করুন:

Hilsa
ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে চায় সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও অভিযান জোরদারের পাশাপাশি দরিদ্র জেলেদের জন্য বিকল্প আয় সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য এম শাহাদাত হোসেনের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আনা নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য হলো জাটকা ধরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং ইলিশের প্রাকৃতিক উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তবে দারিদ্র্যের কারণে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞার সময় জাটকা ধরতে বাধ্য হন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, দরিদ্র জেলেদের মাছ ধরার ওপর নির্ভরতা কমাতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিকল্প আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাণিসম্পদভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের জীবিকা উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।

সংসদে মন্ত্রী বলেন, অনেক জেলের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় ‘দাদন’ নামের অনানুষ্ঠানিক ঋণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়, যেখানে মহাজন বা আড়তদাররা অগ্রিম অর্থ বা সরঞ্জাম দিয়ে পরবর্তীতে কম দামে মাছ ক্রয়ের শর্ত আরোপ করেন। এই নির্ভরতা কমাতেই সরকার বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


তিনি জানান, নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ সময়কালকে কেন্দ্র করে জেলেদের সহায়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে তারা দাদনদারদের ওপর নির্ভরশীল না থাকেন।

আরও পড়ুন

ইলিশ এখন গরিব-মধ্যবিত্তের অতীত স্মৃতি!

জাটকা সংরক্ষণে চাঁদপুর, বরিশালসহ ইলিশ উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং পদ্মা-মেঘনা নদীতে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি মাছঘাট, আড়ত ও অবতরণ কেন্দ্রগুলোতেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর ও বরিশালে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় ১৬৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ হাজার ৩৩টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয় এবং ১৯.৫০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া ২১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ৬৭ হাজার জেলে পরিবারের মধ্যে মাথাপিছু ৪০ কেজি করে মোট ৫৮ হাজার ৭২০ টন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন তাঁর নোটিশে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও বরিশাল অঞ্চলে জাটকা আহরণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান। তিনি বলেন, জাটকা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে দেশে ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়বে।

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর