রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

সাগর-রুনি, মুনিয়া ও ত্বকী হত্যা মামলার অগ্রগতি নেই: টিআইবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

সাগর-রুনি, মুনিয়া ও ত্বকী হত্যা মামলার অগ্রগতি নেই: টিআইবি

আলোচিত সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যা এবং মুনিয়া ও ত্বকী হত্যার বিচারে এত বছরেও নেই কোনো আশানুরূপ অগ্রগতি।

রোববার (৭ জুন) সকালে ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি’র কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেন টিআইবি’র কর্মকর্তা জুলকারনাইন।


বিজ্ঞাপন


প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি বিচার বিভাগ নিয়েও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিচার বিভাগ

বিচারিক কার্যক্রম অংশে বলা হয়েছে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে আইসিটির প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ, মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা, সোহাগী জাহান তনুর হত্যাকাণ্ডের দশ বছর পর মামলায় অগ্রগতি; একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার করা হয়েছে। 

অন্যদিকে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা করা, মামলা প্রত্যাহার বা জামিন দেওয়ার চর্চা অব্যাহত রয়েছে; ভিন্নমতের মানুষের বিচারের ক্ষেত্রে এখনও পুরোনো সংস্কৃতি বিদ্যমান, একদিকে দ্রুততার সঙ্গে সরকারি দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, অন্যদিকে সাংবাদিকসহ ভিন্নমতের রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের এবং বারবার জামিন স্থগিত এবং সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, মুনিয়া ও ত্বকী হত্যার বিচারে জনমনে প্রত্যাশার সৃষ্টি হলেও এসব মামলায় কোনো অগ্রগতি নেই।


বিজ্ঞাপন


কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যমান পুরোনো ধারা

বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন হয়েছে। এর মধ্যে নতুন সরকার কিছু ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো ধারাই রয়ে গেছে।

নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কিছু ক্ষেত্রে আমরা ভালো উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি। আবার কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো ধারা দেখতে পাচ্ছি। নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে এমন কিছু আইন তৈরি করা হয়েছে। সরকার গঠনের পর এমন কিছু নিয়োগ হয়েছে যেগুলো স্পষ্টত দলীয়করণ। এটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত, সরকার এগুলো পরিহার করতে পারত।

বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে টিআইবি জানিয়েছে, সরকার দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। বিশেষ করে রাষ্ট্র সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জবাবদিহিতামূলক শাসন প্রতিষ্ঠায় সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের ঘাটতি রয়ে গেছে।

টিআইবি জানিয়েছে, সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। একই সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচিতে দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখারও অভাব রয়েছে। ফলে সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।

সংস্থাটি সংস্কার কার্যক্রমে আরও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বলেও তাদের সার্বিক পর্যালোচনায় বলা হয়।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ থাকলেও পরিবহন, বাজার ও ব্যবসা খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। এমনকি একজন মন্ত্রীকে চাঁদাবাজির বৈধতা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়াও জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণআন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি সুশাসিত, জবাবদিহিতামূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সেই প্রত্যাশা সামনে রেখে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হলেও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংকিং খাত, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটের মতো নানা চ্যালেঞ্জ সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

এমআইকে/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর