রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

কানাডা জার্মানির স্বপ্ন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়ে অফিস গুটিয়ে হাওয়া

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

কানাডা জার্মানির স্বপ্ন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়ে অফিস গুটিয়ে হাওয়া

জার্মানি এবং কানাডায় নিয়ে যাওয়া হবে। ভালো বেতনে চাকরি পাওয়া সম্ভব। তবে এজন্য খরচ করতে হবে লাখ লাখ টাকা। এমন প্রলোভনে পড়ে অনেকে টাকাও দিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা নিয়ে কিছুদিন পর অফিস গুটিয়ে হাওয়া হয়ে গেছে সেই প্রতিষ্ঠান। এমন একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তারা হলেন- এজাজুল হক ওরফে রতন (৬৩), নার্গিস বেগম (৪০) এবং বাদল (৫৫)।

শনিবার রাতে র‌্যাব-৪ এর মিডিয়া অফিসার নুরাঙ্গীর নাহিদ জানান, প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা র‌্যাবে অভিযোগ করলে চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। চক্রটি ইতালি, জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। শুক্রবার রাতে মিরপুর ও আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।


বিজ্ঞাপন


র‌্যাব জানিয়েছে, গত কয়েক দিন আগে ইমরান হোসেন নামে একজন অভিযোগ দায়ের করেন যে তিনি এই চক্রের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৪ চক্রের মূলহোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে এবং সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করে। 
 
যেভাবে প্রতারিত হলেন ভুক্তভোগী ইমরান: ইমরান হোসেন গাজীপুরের স্থানীয় যুবক এবং একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কোয়ালিটি কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টে চাকুরী করতেন। নার্গিস বেগম ও বাদল নামে দুজনের বাড়ীর পাশে বেশ কয়েক বছর আগে থেকে  বাড়ি করে বসবাস শুরু করে আসছিলেন। সেই সুবাদে তাদের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা ইমরানকে ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে উচ্চ বেতনে চাকুরির প্রলোভন দেখান। তখন ইমরানও বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে তারা জানায় যে, তাদের পরিচিত এজেন্টের মাধ্যমে ইতালি পাঠাতে পারবেন। পরে তারা ইমরানকে রতন নামে একজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। 

রতন ইমরানকে ২২ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। তিনিও সরল বিশ্বাসে তাদের প্রস্তাবে রাজি হন। এরপর ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর শাহ আলী থানা এলাকার মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্সে রতনের অফিসে এসে নগদ ৭০ হাজার টাকা দেন ইমরান। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় আরো পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন। রতন কিছু কাগজপত্র তৈরি ও বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এরপর রতন ইমরানকে জানান যে, ইতালি সরকার লোক নেওয়া বন্ধ করেছে তাই তাকে ইতালি পাঠাতে পারবে না। 

পরবর্তীতে তাকে জার্মানী পাঠানোর প্রস্তাব দেন। তাদের দেওয়া প্রস্তাবে রাজি হয়ে জার্মানী যাওয়ার জন্য আরো ৩ লাখ টাকা দেয়। টাকা দেওয়ার এক মাস পরে তারা জানায় তার কাগজপত্রে কিছু ত্রুটি থাকার কারণে তাকে জার্মানি পাঠাতে পারবে না। তারা তাকে কানাডাতে পাঠানোর আশ্বাস দেন। 

এবার সরল বিশ্বাসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ভিসা, মেডিকেল ও বিমানের টিকেট বাবদ বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে আরো ১১ লাখ টাকা দেন। কিন্তু তারা তাকে বিদেশে না পাঠিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ঘুরাতে থাকেন। গত জানুয়ারি মাসে রতনের অফিসে এসে জানতে পারেন, তার অফিস কয়েক মাস পূর্বে বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। আরো জানতে পারেন যে, আরো কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে তারা প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে মামলা করেন। 


বিজ্ঞাপন


এমআইকে/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর