শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ঢাকা

‘ভেবেছি হাদি হত্যার বিচার দাবিতে মিছিল হবে, কেন হলো না বুঝলাম না’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

‘ভেবেছি হাদি হত্যার বিচার দাবিতে মিছিল হবে, কেন হলো না বুঝলাম না’

শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্যের পর বাংলাদেশে এখনো কোনো গোষ্ঠী, সংগঠন এমনকি রাজনৈতিক দল বিষয়টি নিয়ে কথা বলেনি। অনেকে ভেবেছিল, শুক্রবার হয়তো জুমার নামাজের পর জাতীয় কেন্দ্রীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে মিছিল বা সমাবেশ হবে। হাদি হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারে কেউ কথা বলবেন। কিন্তু আজ তা হয়নি। 

জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজ শুরুর আগেই হাজির হন পুলিশের সদস্যরা। তারা উত্তর পাশের দুই প্রবেশ পথে অবস্থান নেন। অন্য সময় মুসল্লিদের হাতে বা আর্চওয়ে দিয়ে তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হয়। কিন্তু আজ তেমন কিছু ঘটেনি। পুলিশ ছিল স্বাভাবিক পাহারায়। দুই গেটে মিলে অন্তত ১২ জনের অধিক পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে ছিল। মসজিদের উত্তর গেটের ওভারব্রিজ লাগোয়া গেট দিয়ে ঢুকতে হাতের ডানে পুলিশের একটি জিপ গাড়িও দেখা গেল। 


বিজ্ঞাপন


যথারীতি জুমার নামাজ শুরু হয় এবং শেষ হওয়ার আগেই অনেকে বের হয়ে আসেন। আজ অনেকে ভেবেছিলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মিছিল বা সমাবেশ করবে কোনো দল বা সংগঠন। কিন্তু দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত উত্তর গেটে দাঁড়িয়ে থেকেও এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

দুপুর দেড়টায় নামাজ শেষ করে উত্তর গেট দিয়ে বের হচ্ছিলেন রাকিবুল ইসলাম। তিনি এসেছিলেন যাত্রাবাড়ী থেকে। তিনি বলছিলেন, আজ এখানে নামাজ আদায় করলাম। কারণ ভেবেছিলাম হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে মিছিল হবে। সেই মিছিলে শরীক হবো। কিন্তু কেন জানি আজ কোনো সংগঠনই দাঁড়ালো না। বিষয়টি তাকে ভাবিয়েছে। 

রাকিবের সঙ্গে আসা তার চাচাতভাই নোমান বলছিলেন, নির্বাচনের আগে তো একটি রাজনৈতিক দল কথায় কথায় মাঠে নেমে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতো। এখন তারা কোথায়? নির্বাচনও শেষ, তারা এখন আর মাঠে নামছে না। অথচ মমতা যা বলেছেন তাতে স্পষ্ট এই হত্যাকাণ্ডে ভারত ও দেশীয় একটি চক্র জড়িত। ভারত যে এ দেশের লোককে দিয়ে হাদিকে হত্যা করেছে, তা মমতার কথায় ফুটে উঠেছে। 

জুমার নামাজের পর অনেকে বায়তুল মোকাররমের পূর্ব গেট দিয়ে বের হয়ে উত্তর গেটে এসেছিলেন। পরে যখন দেখছিলেন কোনো সংগঠন বা কেউ জড়ো হচ্ছেন না, তখন অনেকে হাঁটা শুরু করেন। তবে কেউ কেউ আজ প্রতিবাদ মিছিল হবে ধরেই এসেছিলেন। তেমনই একজন আবু সায়েম। তিনি বলছিলেন, প্রথমে মসজিদের প্রবেশ পথে পুলিশ দেখে তো ধরেই নিয়েছিলাম আজ কিছু একটা হবে। কিন্তু কেন হলো না, বুঝলাম না। 


বিজ্ঞাপন


সেখানে উপস্থিত সদস্যদের কয়েকজন জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত ডিউটির অংশ হিসেবেই আজও দাঁড়িয়েছিলেন। 

এমআইকে/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর