বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ঢাকা

জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়াতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়াতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় রাসায়নিক বালাইনাশকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, যথেচ্ছভাবে বালাইনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হচ্ছে। তাই বালাইনাশকের উৎপাদন, অনুমোদন ও ব্যবহার অবশ্যই বিজ্ঞানভিত্তিক হতে হবে এবং জৈব ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কীটপতঙ্গ দমনকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর খামারবাড়িতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির ৯০তম (বিশেষ) সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ।

মন্ত্রী বলেন, রাসায়নিক বালাইনাশকের ব্যবহার মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মানবস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে বালাইনাশক ব্যবস্থাপনায় পরিবেশগত প্রভাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জৈব বালাইনাশকের উৎপাদন ও ব্যবহার সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপায়ে কীটপতঙ্গ দমন পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে, অন্যদিকে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কৃষিকে রফতানিমুখী খাতে পরিণত করার সরকারি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কৃষিকে যদি রফতানিমুখী করা যায়, তাহলে দেশের অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে শক্তিশালী করা সম্ভব। সরকারের লক্ষ্য কৃষিকে শিল্পভিত্তিক ও রফতানিমুখী খাতে উন্নীত করা। এজন্য বিশ্বকে নিশ্চিত করতে হবে যে, বাংলাদেশে উৎপাদিত কৃষিপণ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ।


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া, মাটি, বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বিশ্বের সবচেয়ে সুস্বাদু ও মানসম্পন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কিন্তু নানা কারণে সেই সম্ভাবনার পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

দেশে বালাইনাশকের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পেস্টিসাইডের কোয়ালিটি কন্ট্রোল কার্যক্রম পরিচালিত হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে এ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মাটিকে ভারী ধাতুমুক্ত রাখা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের স্বার্থে বালাইনাশকের মান নিয়ন্ত্রণ ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে বালাইনাশকের গুণগত মান যাচাই করা হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, সে বিষয়েও গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করতে হবে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা দেশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, টেকসই ও রফতানিযোগ্য করতে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং মানসম্মত বালাইনাশক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর